Saturday, February 23, 2013

অবাধ পুঁজির খেলায় যে ছাড় প্রতিবছর দেওয়া হয় রাজস্ব খাতে তা এখন পাঁচ লক্ষ আশি হাজার কোটিতে দাঁড়িয়েছে।এই ঘাটতি মেটাতেই প্রতিবছর বিদেশ থেকে কড়া সুদে কর্জ নেওয়া হয়, কিন্তু তা কখন শোধ করা হয় না।দেশকে বছরের পর বছর লাখো কোটি টাকা সুদ গুনতে হয়।প্রণব মুখার্জী রাজনীতি ও নির্বাচনকে কালো টাকার খেলা থেকে মুক্ত করে কালো টাকাকেই সাদা করে করপোরেট ফান্ডিং বৈধ করে দিয়েছেন।দেশের রাজনীতি ও অরাজনীতি দুইই এখন করপোরেট চাঁদায় চলে, তাই করপোরেট স্বার্থের বিরুদ্ধে বলার মত বুকের পাটা কারোরই নেই। এই করপোরেট সর্বাধিনায়কের বিরুদ্ধেো সংবিধান উলঙ্ঘনের অভিযোগ তুলতে পারে না কেউই।তিনি অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন যে রোডম্যাপ তৈরি করে দিয়েছেন তাঁর উত্তরসুরী চিদাম্বরম সেই রাস্তাতেই হাঁটছেন।বাজেট ঘাটতির আসল কারণ অবাধ পুঁজি প্রবাহ, কালো টাকার নিখাদ অর্থ ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা ও আন্তরিক সুরক্ষার নামে আধিপাত্যবাদী কর্ত-ত্বের দখলে থাকা সৈন্য রাষ্ট্রেজনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।প্রতিরক্ষা কেলেন্কারিই ভারতীয় রাজনীতির সোনার খনি। পলাশ বিশ্বাস

অবাধ পুঁজির খেলায় যে ছাড় প্রতিবছর দেওয়া হয় রাজস্ব খাতে তা এখন পাঁচ লক্ষ আশি হাজার কোটিতে দাঁড়িয়েছে।এই ঘাটতি মেটাতেই প্রতিবছর বিদেশ থেকে কড়া সুদে কর্জ নেওয়া হয়, কিন্তু তা কখন শোধ করা হয় না।দেশকে বছরের পর বছর লাখো কোটি টাকা সুদ  গুনতে হয়।প্রণব মুখার্জী রাজনীতি ও নির্বাচনকে কালো টাকার খেলা থেকে মুক্ত করে কালো টাকাকেই সাদা করে করপোরেট ফান্ডিং বৈধ করে দিয়েছেন।দেশের রাজনীতি ও অরাজনীতি দুইই এখন করপোরেট চাঁদায় চলে, তাই করপোরেট স্বার্থের বিরুদ্ধে বলার মত বুকের পাটা  কারোরই নেই। এই করপোরেট সর্বাধিনায়কের বিরুদ্ধেো সংবিধান উলঙ্ঘনের অভিযোগ তুলতে পারে না কেউই।তিনি অর্থমন্ত্রী থাকাকালীন যে রোডম্যাপ তৈরি করে দিয়েছেন তাঁর উত্তরসুরী চিদাম্বরম সেই রাস্তাতেই হাঁটছেন।বাজেট ঘাটতির আসল কারণ অবাধ পুঁজি প্রবাহ, কালো টাকার নিখাদ অর্থ ব্যবস্থা ও প্রতিরক্ষা ও আন্তরিক সুরক্ষার নামে আধিপাত্যবাদী কর্ত-ত্বের দখলে থাকা সৈন্য রাষ্ট্রেজনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ।প্রতিরক্ষা কেলেন্কারিই ভারতীয় রাজনীতির সোনার খনি। 

ডিজেলের দাম বাড়ায় রেল ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে আবারও ভাবছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বাজেটের আগে এই ভাড়া বাড়ানো নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ইউপিএ সররকার।

 অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান৷ দীর্ঘ ন'বছর পর দেশে আবার বেসরকারি সংস্থাগুলি ব্যাঙ্ক খুলতে পারবে৷ শুক্রবারই নতুন ব্যাঙ্ক খোলার অনুমতি দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক৷ দেশের আর্থিক ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার৷ 

Launch second phase of economic reforms: FICCI


পলাশ বিশ্বাস

প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী। তাই বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনের ভাষণে ঠিক কোন পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে ২০১৩-১৪ সালের বাজেট প্রস্তুত করতে হচ্ছে, সে মুখবন্ধটা তৈরি করে দিতে বিন্দুমাত্র অসুবিধে হল না। বৃহস্পতিবার শুরু হল সংসদের বাজেট অধিবেশন। আর এদিন যৌথ সভায় রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় যা বললেন তার নির্যাস, যে সংকটের মধ্যে দিয়ে দেশের অর্থনীতি যাচ্ছে, তার মোকাবিলায় প্রয়োজন সংস্কারের। ঘটনা হল, 'সংস্কার' শব্দটি তিনি একবারের জন্যও উচ্চারণ করেননি। কিন্তু জিডিপি থেকে শুরু করে মুদ্রাস্ফীতির প্রসঙ্গ তুলে বুঝিয়েছেন, হাল ফেরাতে সময়োচিত পদক্ষেপই করছে সরকার। 

শ্রমিক স্বার্থবিরোধী নীতিমালার প্রতিবাদে দেশজুড়ে দুই দিনব্যাপী ধর্মঘট পালন করছেন ভারতের লাখ লাখ শ্রমিক। দেশটির ১১টি প্রধান শ্রমিক সংগঠনের ডাকা এ ধর্মঘটের প্রথম দিনে কোনো শ্রমিকই কাজে যোগ দেননি। এতে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন খাতের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। খবর এএফপির।

অর্থনীতিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ কমানোর লক্ষ্যে গত বছর সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে ভারত সরকার। এ সংস্কার পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে দেশটির বীমা, উড়োজাহাজ এবং খুচরা খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া কৃষকদের ভর্তুকিপ্রাপ্ত ডিজেলের দাম বৃদ্ধি এবং রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে মূল্যছাড়ের হারও কমানো হয়। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ঋণমান হারানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতি প্রসারিত হবে বলে দাবি সরকারের। কিন্তু এ সংস্কার পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় দেশটির শ্রমিক সংঘ। শ্রমিক সংঘের দাবি এ পদক্ষেপের দরুন বিরূপ প্রভাব পড়বে দরিদ্রদের ওপর। পরবর্তী সময়ে সংস্কার পদক্ষেপ পরিবর্তনে শ্রমিকদের দাবি মেনে নিতে ভারত সরকার অস্বীকৃতি জানানোর পর এ ধর্মঘটের ডাক দেয় শ্রমিক সংঘগুলো।

সেন্টার অব ইন্ডিয়ান ট্রেড ইউনিয়নের জেনারেল সেক্রেটারি তপন সেন বলেন, এ সংস্কার পদক্ষেপে শ্রমিকদের মতামত পুরোপুরিভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে এবং এতে শ্রমিকবিরোধী নীতিমালার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ধর্মঘট প্রত্যাহারের জন্য শ্রমিক ইউনিয়নগুলোকে আহ্বান জানিয়েছেন। দেশটির বার্ষিক প্রবৃদ্ধির মন্থরগতিকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এ ধর্মঘটের কারণে অর্থনীতি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

Launch second phase of economic reforms: FICCI

India's economic liberalisation initiated by the then Finance Minister and present Prime Minister Mr Manmohan Singh 20 years ago has come full circle and the time has come to launch the second phase of the programme so that benefits could also reach the common man.

"We have to do more. Now is the time to give the economic reforms one more push so that the poor people of the country can benefit even more," said Ficci Secretary General Mr Rajiv Kumar in his comments on the completion of two decades of the launch of the economic liberalisation programme.

Expressing similar opinion, CII Director General Mr Chandrajeet Banjerjee said, "The time has come for the next level of economic reforms. We would like to see much more happening in sectors like education, agriculture, health care and in adoption of modern technology."

The second generation of reforms, according to experts, would require further freeing of sectors like insurance, banking and retail, strengthening of infrastructure, streamlining of the legal system, removal of corruption, improvement of the public delivery system and creation of credible social infrastructure.

It was on this day two decades ago in 1991, the then Finance Minister Mr Manmohan Singh laid the foundation of economic reforms in his Budget speech in the Lok Sabha and announced concrete steps to decisively move away from the centralised planning regime and align India with the global economy.

Since then there has been no looking back, and the Government through a series of calibrated steps opened the Indian economy allowing foreign investments even in sectors like insurance and banking, privatising public sector undertakings and freeing the financial sector.

As a result of the economic reforms, India came out of the syndrome of the Hindu rate of growth and achieved 8-9 per cent economic expansion to become the fastest growing free market economy in the world.

India's economic growth rate today is only second to that of China. India was growing at over 9 per cent before the global economic crisis in 2008 and is likely to revert to the same level in the 12th Five Year Plan beginning April 1, 2012.

The country, however, has not been able to effectively deal with problems of poverty and those concerning inflation and corruption as they continue to haunt the policy markers.

Besides poverty alleviation, Assocham secretary general Mr D. S. Rawat said, "The country desperately needs to improve infrastructure sector. It is necessary to boost the manufacturing sector and generate mass employment."

Commenting on the achievements during the two decades of reforms, noted economist Mr Y. K. Alagh said, "Global competitiveness of Indian companies have increased and some Indian companies achieved Mahalnobis's dream by acquiring large MNC's abroad... which we could not achieve with centralised planning."

Noting that the difference between the rich and the poor has increased after the reforms, he said, "It has increased as much in China."

One of the major achievement of India's economic reform, according to Crisil's Chief Economist Mr D. K. Joshi, "is that we have been able to achieve higher growth rate. Indian economy grew by around 7 per cent on an average over the past two decades and by 9 per cent by 2005 to 2007."

"Productivity of our enterprises increased. India is now the fastest growing economy after China. A lot of things happened on public private partnership. Per capita income of Indian increased several times," he added.

The Government would need to expedite the second phase of reforms to achieve sustained growth, he said, while welcoming the recent decision of the Committee of Secretaries (CoS) of opening of the multi-brand retail to foreign investment.

"We can say the Government is taking gradual steps towards economic reforms," Mr Joshi added.



২৬ তারিখ রেল বাজেট, পরের দিন অর্থসমীক্ষার রিপোর্ট পেশ ও ২৮ তারিখ অর্থ বাজেট পেশ৷ রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হওয়ায় এই অধিবেশনে ঝাড়খণ্ডের বাজেটও পেশ হবে৷ 

অবশেষে প্রতীক্ষার অবসান৷ দীর্ঘ ন'বছর পর দেশে আবার বেসরকারি সংস্থাগুলি ব্যাঙ্ক খুলতে পারবে৷ শুক্রবারই নতুন ব্যাঙ্ক খোলার অনুমতি দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক৷ দেশের আর্থিক ক্ষেত্রে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার৷ 

আসন্ন বাজেট অধিবেশনে ১৬টি বিল পেশ হতে পারে৷ আলোচনা হবে ৩৫টি মতো বিল নিয়ে৷ লোক সভায় পাশ হতে পারে পেনশন বিল, বিমা বিলের মতো বিতর্কিত বিলগুলিও৷ ইউপিএ চেয়ারপার্সন চান এই অধিবেশনেই পেশ হোক পরিবর্তিত খাদ্যসুরক্ষা বিল৷ ২০১১ সালেই লোকসভায় পেশ হয়েছে খাদ্য সুরক্ষা বিল৷ এখন সেটি সংসদীয় কমিটি ও খাদ্যমন্ত্রক ঘুরে আইনমন্ত্রকে৷ খাদ্যমন্ত্রী কে ভি টমাস জানিয়েছেন, এই অধিবেশনেই সংশোধনগুলি পেশ হবে৷ জমি অধিগ্রহণ (সংশোধন) বিল, লোকপাল, মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়েও এগোতে চায় শাসক দল কংগ্রেসক৷ আলোচনা হতে পারে পেনশন বিল, বিমা বিল ও কোম্পানিজ বিল নিয়ে৷ বিদেশি বিনিয়োগের রাস্তা চওড়া করতে বিদেশি মুদ্রা সংক্রান্ত ফেমা বিল সংশোধন হতে পারে৷ 

 মন্টেক সিংহ অহলুওয়ালিয়া'র মতে শহরাঞ্চলে দৈনিক ৩২ টাকা ও গ্রামাঞ্চলে দৈনিক ২৬ টাকার বেশি খরচ করতে সক্ষম ব্যক্তি দরিদ্র নন অনেক বেশি মানুষ আগের চেয়ে অনেক ভাল আছে, এ কথাটা যোজনা কমিশনেরমন্টেক সিংহ অহলুওয়ালিয়া যত জোর দিয়েই বলুন না কেন, ঘর-গেরস্তালিতে তার ছাপ কোথায়? পুকুরের বদলে টিউবওয়েল, খড়ের জায়গায় টিনের চাল, মাঠে না গিয়ে শৌচাগার, গোটা দেশে এই সবের হিসেব নিয়ে শতাংশে আনলে মনে হতে পারে, 'বাঃ, দেশ এগোচ্ছে।' যোজনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান মন্টেক সিংহ অহলুওয়ালিয়া বৃহস্পতিবার স্পষ্ট জানান, আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে এবং জ্বালানি আমদানির ব্যয়ভার কমাতে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। না হলে আর্থিক সংস্কার বাধাপ্রাপ্ত হবে। 

মন্টেক একজন ভারতীয় অর্থনীতিবিদ এবং সিভিল সার্ভেন্ট৷ বর্তমানে তিনি পরিকল্পনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান৷ এর আগে মন্টেক ইন্টারন্যাশনাল মানিটারি ফান্ডের ইন্ডিপেন্ডেট ইভ্যালিউশন অফিসের প্রথম ডিরেক্টর ছিলেন৷ ভারত সরকারের নীতিবিষয়ক এই মুখ্য উপদেষ্টা আলুওয়ালিয়া দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে নীতি নির্ধারণ করছেন৷ দেশের অর্থনীতি সংস্কার থেকে শিক্ষা সংস্কারের জন্য নিত্যনতুন নীতি ও পরিকল্পনা নিয়ে চলেছেন তিনি৷ প্রায় দু'দশক ধরে চলে আসা উদারীকরণে তিনিই ধনাত্বক অনুঘটক৷ বিভিন্ন রাজ্যের এবং মন্ত্রকের বাজেট বরাদ্দ পরিকল্পনা কমিশনের এই ডেপুটি চেয়ারম্যানই নিয়ন্ত্রণ করেন৷

 


 দ্বিতীয় পর্যায়ের সংস্কার কর্মসুচিতে কি হতে চলেছে, কপ্টার কেলেন্কারিতে কলন্কিত ভারতের করপোরেট কর্তৃত্বের   মুখপাত্র হিসাবে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিনেই সে অশনিসংকেত দিয়ে দিয়েছেন
।তাঁর সংস্কারমুখি ভাষণে দ্বিতীয় পর্যায়ের সংস্কার কর্মসুচির পরিস্কার রোড ম্যাপ।জমি অধিগ্রহণ বিল সহ .যাবতীয় সংস্কার প্রয়োজনীয় বিল পাস করানোর জন্য তিনি রাষ্ট্রপতি পদে থেকেও সংখ্যালঘু ইউপিএ সরকারের হয়ে ফ্লোর এডজাস্টমেন্টের খেলায় নেমেছেন


অথচ বাজেট ঘাটতি কমানোর জন্য ভারত সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার বিক্রি করে আট শো আশি মিলিয়ন ডলার সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে।এছাড়া খবর হল যে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে কৃচ্ছ্র বাজেট পেশের পরিকল্পনা করছে ভারত। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের জন্য দেশটির সরকারি ব্যয় প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ১০ শতাংশ হ্রাসের   পরিকল্পনা করছেন অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে এটি হবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে সবচেয়ে কৃচ্ছ্র বাজেট। খবর রয়টার্সের।চলতি অর্থবছরে চিদাম্বরম এরই মধ্যেই সরকারি ব্যয় প্রকৃত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ শতাংশ কমিয়ে এনেছেন। তাই নতুন অর্থবছরের বাজেট পরিকল্পনায় সরকারি ব্যয় আরো কমে আসবে।বাজেটের চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে ২৮ ফেব্রুয়ারি বাজেট ঘোষণার জন্য প্রস্তুতিতে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বলেছেন, চিদাম্বরম বাজেটে ঘাটতির রাশ টেনে ধরতে চান।সমালোচকরা বলছেন, ভারতে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং ভোক্তার চাহিদা কমতে থাকায় এ সময়ে সরকারি ব্যয় আরো কমে গেলে দেশটির অর্থনীতির গতি শ্লথ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে।তবে চিদাম্বরম জানান, আর্থিক ঘাটতি কমিয়ে আনতে পারলে তা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।

কয়লা ভুলে কাজিয়া এখন সংস্কার নিয়েই. এক ধাক্কায় বিতর্কের বিষয়টাই বদলে গিয়েছে। গত সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় পর্যন্তও জাতীয় রাজনীতির প্রধান আলোচ্য ছিল কয়লা দুর্নীতি। সেখান থেকে আর্থিক সংস্কারে বিতর্কটাকে টেনে নিয়ে এসেছে কংগ্রেস। 

ভারতের অর্থনীতি দুই বছরের মধ্যে ৭-৮ শতাংশের উচ্চপ্রবৃদ্ধিতে ফিরে আসবে। এর মাধ্যমে এক দশকের অর্থনৈতিক শ্লথগতি থেকে বেরিয়ে আসবে দেশটি। অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম  বরাবর দাবি করছেন।কি ভাবে এই কাজ হাসিল হবে, তার দিশা বাতলে দিয়েছেন প্রণব বাবু।যিনি প্রথম বাঙ্গালি রাষ্ট্রপতি হয়েও বাংলার আর্থিক হাল হকীকত পেরাতে অর্থমন্ত্রী হিসাবে কোনো দিন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেন নিএমনকি বাজেট অধিবেশনের প্রথম দিন তাঁর ভাষণে বাংলার জন্য তেমন কিছুই নেই।সাগর দ্বীপের বন্দর কবে হবে তার চেয়ে বড় প্রশ্ন ঔ বন্দর থেকে মাল খালাসের ব্যবস্তা কি হবে।ছিটমহল নিয়ে সংবিধান সংশোধনের রাস্তাো জটিলতা ভরা

আর্থিক বিকাশের বেহাল দশা নিয়ে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন দ্বিমুখী সমস্যার কথা। যার একদিকে রয়েছে ঘরোয়া ফ্যাক্টর আর অন্য পিঠে আন্তর্জাতিক ওঠাপড়া। এই সাঁড়াশি আক্রমণেই যে নাভিশ্বাস উঠছে, সে কথা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। কেন্দ্রের সংস্কারমুখী প্রকল্পগুলির সমর্থন করে রাষ্ট্রপতি বলেছেন, 'আমাদের সরকার এই অবস্থায় যা যা করা প্রয়োজন, তা-ই করছে। বিনিয়োগ এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে সচেষ্ট সরকার।' 

২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচন। উল্টো দিকে আবার ২০১২-১৩ অর্থবর্ষে আর্থিক বিকাশের হার দশকের রেকর্ড ভেঙে ৫ শতাংশে নেমে যাওয়ার ভ্রূকূটি। আগের অর্থবর্ষে যা ছিল ৬.২ শতাংশ, এবার সেটাই কমে যেতে পারে ৫ শতাংশে। এমন একটা জটিল পরিস্থিতিতেই বাজেটের হিসেবনিকেশ করতে হবে অর্থমন্ত্রী পালানিয়াপ্পন চিদাম্বরমকে। কতকটা তাঁর ঢাল হয়েই প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেছেন, 'ভারতীয় অর্থনীতির বিকাশের হার ধাক্কা খেয়েছে। চলতি আর্থিক বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৫.৪ শতাংশ। অথচ, গত দশকেই আমরা গড়ে এই হার ৮ শতাংশ দেখেছি।' 

সমান্তরাল ভাবে বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি। চড়া মূল্যবৃদ্ধির বাজারে দেশবাসীর হাঁসফাঁস অবস্থা অনিবার্য ভাবেই ভোটে বিরোধীদের হাতিয়ার হবে। হাতে সময় বলতে একটিমাত্র অর্থবর্ষ। তাতে পরিস্থিতি ঘুরিয়ে দেওয়া সম্ভব, এ কথা জোর দিয়ে বলতে পারেননি রাষ্ট্রপতি। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বলা সম্ভবও নয়। রাষ্ট্রপতি বলেছেন, 'মুদ্রাস্ফীতির ফাঁস ধীরে ধীরে আলগা হচ্ছে...যদিও এটি এখনও একটি বড় সমস্যা।' 

এনেছেন বিদেশনীতির প্রসঙ্গও। নিয়ন্ত্রণরেখায় দুই ভারতীয় জওয়ানের হত্যার ঘটনা টেনে তিনি বলেছেন, পারস্পরিক আস্থা কমে, এমন কোনও কাজ পাকিস্তানের করা উচিত নয়। তাঁর কথায়, 'শান্তিপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে ভারত আগ্রহী। কিন্তু সেই সঙ্গে পাকিস্তানকেও দায়বদ্ধ থাকতে হবে।' চিনে নতুন নেতৃত্বর সঙ্গে ভারত একযোগে কাজ করতে চায়, সে কথাও জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতি এদিন ঘোষণা করেছেন, ভারতের মঙ্গলাভিযান শুরু হবে এ বছরই।

ভারতীয় টেলিকম মন্ত্রকের টুজি স্পেকট্রাম দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী চিদম্বরমকে কার্যত ক্লিনচিট দিয়েছে সুপ্রিমকোর্ট। উপজাতিদের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের যুদ্ধের প্রমাণ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে ইতিপূর্বে চিদাম্বরম বলেছেন, যেসব রাজ্যে কংগ্রেসের শাসন নেই বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সেসব রাজ্যেই মাওবাদী গেরিলা সংকট রয়েছে। কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে দেয়া বক্তৃতায় তিনি এ দাবি করেন।তাংর এই বক্তব্যের প্রতিফলন অর্থমন্ত্রী হিসাবে তার কাজকর্মে প্রতিনিযত দেখা যাচ্ছে


চিদাম্বরম বলেন, মহারাষ্ট্র ছাড়া ভারতের যেসব রাজ্য কংগ্রেস শাসন করছে না মূলতঃ সেগুলোতে মাওবাদী গেরিলা সংকট রয়েছে। তিনি ঝাড়খন্ড, ছত্তিশগড়, উড়িষ্যা এবং দক্ষিণ বিহারে বিরাজমান প্রকট মাওবাদী গেরিলা সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, এসব রাজ্যে গত ১০ বছর ধরে কংগ্রেসের শাসন ছিল না।


এদিকে, ২০০১ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে ভারতে প্রতিবছর গড়ে পাঁচটি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন চিদাম্বরম। তবে, গত তিন বছরে ভারতে মাত্র তিনটি সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। চিদাম্বরম বলেন,ভারতে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা কমে গেছে।  


ছত্তিশগড়ে গত ২৭ ও ২৮ জুন চালানো মাওবাদ-বিরোধী অভিযানে নিহত ১৯ জনের মধ্যে কেউ সন্ত্রাসী ছিল কিনা তা নিয়ে যখন জোর বির্তক চলছে তখন মাওবাদী গেরিলা সংকট নিয়ে নতুন মন্তব্য করলেন চিদাম্বরম। ছত্তিশগড়ে নিহতদের মধ্যে একটি ১২ বছরের মেয়ে এবং ১৮ বছরের পাঁচ তরুণ ছিল।


ছত্তিশগড়ে আধাসামরিক বাহিনী সিআরপিএফ'র সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত ১৯ ব্যক্তির কেউই মাওবাদী গেরিলা ছিল না বলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রথম দাবি করে ভারতের ইংরেজি দৈনিক ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। কিন্তু, এ সংবাদ প্রকাশের পর বহুবার চিদাম্বরম দাবি করেছেন, ছত্তিশগড়ের মাওবাদ-বিরোধী অভিযান সঠিক ছিল।


ডিজেলের দাম বাড়ায় রেল ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে আবারও ভাবছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। বাজেটের আগে এই ভাড়া বাড়ানো নিয়ে জল্পনা-কল্পনা শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ইউপিএ সররকার।
 
আগামী বছর লোকসভা নির্বাচনের আগে ইউপিএ সরকারের এটিই শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট । তাই বাজেটের প্রায় মাস খানেক আগে কোষাগারে নগদ জোগান বাড়াতে প্রায় এক দশক পরে সব শ্রেণিতে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রেলমন্ত্রণালয়। বাড়তি টাকায় নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়ারও কথা ভাবা হয়েছিল। কিন্তু সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি ভেস্তে দিয়েছে রেল মন্ত্রণালয়ের একাধিক পরিকল্পনা।
 
এদিকে নির্বাচনের আগে ফের ভাড়া বাড়লে বিরোধীরা প্রচারের বাড়তি সুযোগ পেয়ে যাবে, এই যুক্তিতে কংগ্রেসের একটি বড় অংশ এখনই যাত্রিভাড়া বাড়ানোর বিপক্ষে।
 
কিন্তু রেল কর্মকর্তারা বলছেন, ডিজেলের ভর্তুকি যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়ার মাধ্যমে নেওয়ারই পক্ষপাতী যোজনা কমিশনের উপাধ্যক্ষ মন্টেক সিংহ অহলুওয়ালিয়া ও প্রধানমন্ত্রীর দফতর। তবে দুমাসের মধ্যে দ্বিতীয় বার যাত্রিভাড়া বাড়বে কি না, সেই সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের হাতেই রয়েছে বলে জানিয়েছেন রেলকর্তারা।
 
রেল মন্ত্রণালয়ের সূত্রের খবর, যাত্রিভাড়া বাড়িয়ে যে ৬৬০০ কোটি টাকা আয় হবে বলে ভাবা হয়েছিল, ডিজেলের দাম বৃদ্ধিতে তা কমে ঠিক অর্ধেক হয়ে পড়েছে! এই পরিস্থিতিতে যাত্রিভাড়া থেকে বাড়তি আয়ের মাধ্যমেই পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দেওয়া সম্ভব বলে দাবি রেলকর্তাদের।

২০০৪ সালে ইয়েস ব্যাঙ্ক শেষ বেসরকারি ব্যাঙ্কের লাইসেন্স পায়৷ ২০০৩-০৪ সালেই কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্ককেও ব্যবসা শুরু করার অনুমতি দেয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক৷ তার আগে, ১৯৯৩ সালে বেসরকারি ব্যাঙ্কের লাইসেন্স দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক৷ সেই সময় ব্যাঙ্কিং লাইসেন্সের জন্য ১১৩টি আবেদন পত্র জমা পড়েছিল, কিন্ত্ত কেবল ন'টি সংস্থা ওই লাইসেন্স পায়৷ 

অর্থাত্, এবার যে নতুন ব্যাঙ্ক খোলার জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ঢালাও লাইসেন্স দেওয়া হবে এমনটা মনে করার কোনও কারণ নেই৷ 

ইতিমধ্যেই দেশের প্রথম সারির কুড়িটিরও বেশি সংস্থা ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় ঢোকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে৷ এদের মধ্যে যেমন রয়েছে অনিল আম্বানি গোষ্ঠীর রিলায়েন্স ক্যাপিটাল, আদিত্য বিড়লা গোষ্ঠীর আদিত্য বিড়লা ন্যুভো, টাটা ক্যাপিটাল, রেলিগেয়ার, বাজাজ ফিনসার্ভ, লার্সেন অ্যান্ড ট্যুব্রোর মতো দেশের প্রথম সারির সংস্থা, তেমনি রয়েছে এই শহরের শ্রেয়ি ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফিনান্স, শ্রীরাম ট্রান্সপোর্ট ফিনান্স, মূথুত ফিনান্স, এসকেএস মাইক্রোফিনান্স প্রভৃতি৷ এমনকি ইন্ডিয়া পোস্টেও ব্যাঙ্ক ব্যবস্থায় ঢোকার জন্য ইতিমধ্যেই উপদেষ্টা সংস্থা নিয়োগ করেছে৷ অতএব, ভারতীয় ডাক বিভাগও ব্যাঙ্কের লাইসেন্স পেতে আবেদন করতে পারে৷ 

 জারি করা বিজ্ঞন্তি অনুযায়ী, নতুন ব্যাঙ্ক খুলতে ইচ্ছুক সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলিকে এবছর ১ জুলাইয়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে৷ নতুন ব্যাঙ্ক শুরু করতে কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকা মূলধন লাগবে৷ 

নতুন ব্যাঙ্কের লাইসেন্স পাওয়া যে খুব সহজ হবে না সেকথা নির্দেশিকার শর্তগুলিতে চোখ বোলালেই বোঝা যায়৷ তবে, রিয়েল এস্টেট এবং শেয়ার বাজারের ব্রোকিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত সংস্থাগুলি ব্যাঙ্কিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে পারবে কিনা তা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হচ্ছিল এদিন তার অবসান হয়েছে৷ চূড়ান্ত নির্দেশিকায় এই ধরনের সংস্থাগুলি যে আবেদন করতে পারবে না সে সম্পর্কে কোনও স্পষ্ট উল্লেখ নেই৷ তবে বলা হয়েছে, নতুন ব্যাঙ্ক তার প্রোমোটার সংস্থার শেয়ার বা ঋণপত্রে বিনিয়োগ করতে পারবে না বা কোনও রকম টাকা ধার দিতে পারবে না৷ 

নতুন ব্যাঙ্ক খুলতে গেলে একটি বিশেষ কাঠামো অনুসরণ করতে হবে৷ ব্যাঙ্ক লাইসেন্স পেতে ইচ্ছুক কোনও বেসরকারি শিল্প গোষ্ঠীর মোট আয়ের ৪০ শতাংশ যদি নন-ফিনান্সিয়াল ক্ষেত্র থেকে আসে তবে ওই গোষ্ঠীকে আগে থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের অনুমতি নিতে হবে৷ অনুমতি পাওয়ার পর একটি নন-অপারেটিভ (কোনও রকম ব্যবসা করবে না এমন) হোল্ডিং সংস্থা তৈরি করতে হবে যেখানে শুধু প্রোমোটার গোষ্ঠীরই ১০০ শতাংশ শেয়ার থাকবে৷ ওই হোল্ডিং সংস্থাটিই কেবল ব্যাঙ্ক তৈরি করতে পারবে এবং ওই ব্যাঙ্কে হোল্ডিং সংস্থাটি ৪০ শতাংশের বেশি শেয়ার রাখতে পারবে না৷ বাকি ৬০ শতাংশ শেয়ার বিদেশি বিনিয়োগকারীসহ অন্য বিনিয়োগকারীদের কাছে থাকবে৷ অর্থাত্, হোল্ডিং সংস্থাটিকে ব্যাঙ্কে অন্তত ২০০ কোটি টাকা মূলধন বিনিয়োগ করতে হবে৷ 

ব্যাঙ্ক শুরুর ১২ বছরের মধ্যে হোল্ডিং সংস্থাটিকে অংশিদারীত্ব ৪০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে হবে৷ তবে, প্রথম পাঁচ বছর হোল্ডিং সংস্থা কোনও শেয়ার বিক্রি করতে পারবে না৷ তাছাড়া, শুরুর তিন বছরের মধ্যে ব্যাঙ্কের শেয়ার কোনও জাতীয় শেয়ার বাজারে নথিভুক্ত করাতে হবে৷ তবে, শুরুর পাঁচ বছর ব্যাঙ্কে মোট বিদেশি বিনিয়োগ ৪৯ শতাংশের বেশি করা যাবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক৷ পাঁচ বছর পরে বর্তমান নিয়মে বিনিয়োগ করা যাবে৷ বর্তমানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ ও বেসরকারি ব্যাঙ্কে সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগে অনুমতি রয়েছে৷ 

নির্দেশিকায় সুস্পষ্ট ভাবে বলা হয়েছে, অন্তত ৫০ শতাংশ নিরপেক্ষ ডিরেক্টর নিয়োগ করতেই হবে৷ হোল্ডিং সংস্থা এবং ব্যাঙ্কটি কোন প্রমোটার সংস্থা তৈরি করেছে সে কথা প্রচার করা যাবে না৷ 

ব্যাঙ্ক খোলার শর্ত হিসাবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বলেছে, যে সব গ্রামে জনসংখ্যা ১০ হাজারের বেশি কিন্ত্ত ব্যাঙ্ক পরিষেবা নেই তেমন গ্রামে অন্তত ২৫ শতাংশ শাখা খুলতে হবে৷ এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত৷ কেননা এখনও পর্যন্ত বেশির ভাগ বেসরকারি ব্যাঙ্কেরই গ্রামাঞ্চলে শাখার সংখ্যা ২৫ শতাংশ নয়৷ নতুন ব্যাঙ্কদের ক্ষেত্রে এই শর্ত ব্যবসা শুরুর পক্ষে আরও কঠিন হবে৷ 

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই শর্তটি রাখার কারণ কেবল 'সিরিয়াস' শিল্পগোষ্ঠীরাই যাতে ব্যাঙ্ক খোলায় আগ্রহী হয়৷ 

লাইসেন্স দেওয়ার আগে আবেদনপত্রগুলি পরীক্ষা করে দেখবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ও সেগুলি উচ্চ পর্যায়ের পরামর্শদাতা সংস্থার কাছে পাঠানো হবে৷ এই কমিটিও খুব শীঘ্রই তৈরি হবে৷ অন্য নিয়ামক সংস্থাগুলির, যেমন সেবি বা আইআরডিএ, কাছ থেকেও পরামর্শ চাইবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক৷ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আবেদনপত্র গ্রহণ শেষ হলে আবেদনকারীদের নাম নিজেদের ওয়বে সাইটে দেবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক৷ 

১৯৬৯ সালে ব্যাঙ্ক রাষ্ট্রায়ত্তকরণের পর ভারতীয় ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থায় এখনও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলিরই আধিক্য৷ সরকারও চায় না ওই ব্যাঙ্কগুলিতে নিজের অংশিদারীত্ব ৫১ শতাংশের বেশি কমাতে৷ ট্রেড ইউনিয়ন এবং রাজনৈতিক দলগুলির চাপ রয়েছে৷ অথচ, দেশে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা বাড়াতে গেলে এবং আগামী বছর থেকে বাসেল থ্রি নিয়ম লাগু করতে হলে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির যে পরিমাণ মূলধন দরকার সেই পরিমাণ অর্থ জোগানও সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়৷ তাই, বেসরকারি সংস্থাগুলিকে নতুন ব্যাঙ্ক খোলার লাইসেন্স দেওয়া বিশেষ প্রয়োজন৷ কিন্ত্ত, মুশকিল হল ১৯৯৩ সালে বেসরকারি সংস্থাগুলিকে ব্যাঙ্কিং লাইসেন্স দেওয়ার অভিজ্ঞতাও খুব সুখকর নয়৷ সেঞ্চুরিয়ন ব্যাঙ্ক এবং ব্যাঙ্ক অফ পাঞ্জাব চালাতে না পেরে পরে এইচডিএফসি ব্যাঙ্কের সঙ্গে মিলিত হয়৷ গ্লোবাল ট্রাস্ট ব্যাঙ্ক লাটে উঠলে ওরিয়েন্টাল ব্যাঙ্ক কমার্সকে বাধ্য হয়ে ওই ব্যাঙ্ক কিনতে হয়৷ তাছাড়া, কোনও শিল্পগোষ্ঠী ব্যাঙ্ক শুরু করলে ওই ব্যাঙ্কের টাকা নিজেদের ব্যবসায় লাগানোর আশঙ্কা তো রয়েইছে৷ 
তবে, বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এ বারের লাইসেন্স দেওয়ার শর্ত অনেক বেশি কঠোর এবং তাতে আগের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার সুযোগ অনেক কম৷ শুক্রবারের নতুন ব্যাঙ্ক লাইসেন্সের চূড়ান্ত নির্দেশিকা ঘোষণায় খুশি শিল্পগোষ্ঠীগুলিও৷ মাহিন্দ্রা ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর রমেশ আইয়ার বলেন, 'আমরা খুশি, এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন ব্যাঙ্ক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা নিয়ে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব৷' 

রিলায়েন্স ক্যাপিটালের শ্যাম ঘোষ আগেই বলেছিলেন তাঁদের সংস্থা 'রিলায়েন্স ব্যাঙ্ক'-এর জন্য আবেদন করবে৷ রেলিগেয়ার সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, 'আমরা অবশ্যই আবেদন করব৷' 


চীন ও ভারতের অর্থনীতিকে পরস্পরের সঙ্গে তুলনা করা অবান্তর বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের অর্থমন্ত্রী পি চিদাম্বরম। তাঁর মতে, দুই দেশের অর্থনীতিতে সমস্যা দুই ধরনের। 
চিদাম্বরম বলেন, 'চীন হলো রাজস্ব উদ্বৃত্তের দেশ। তাদের চলতি হিসাবে উদ্বৃত্ত আছে। তাদের আছে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।'
হংকং সফরকালে ভারতীয় অর্থমন্ত্রী বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। 
ভারতীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, 'চীন এখন বিশ্বের সর্বত্র তেল, কয়লা ও ধাতব খাতে বিনিয়োগ করতে সক্ষম। কাজেই তাদের সমস্যা অন্য রকম। অন্যদিকে আমরা (ভারত) চলতি হিসাবের ঘাটতি মোকাবিলা করছি। এই ঘাটতি মেটাতে হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা এনে। তাই আমরা বিদেশি বিনিয়োগের ও বাইরের ঋণের ওপর নির্ভরশীল।'
চিদাম্বরম বলেন, 'আমি মনে করি না যে ভারত ও চীনের পরিস্থিতির তুলনা হওয়া উচিত। এই ধরনের তুলনা খুব প্রাসঙ্গিক হয় নয়; বরং নিজেদের সমস্যা সমাধানে আমাদের বেশি মনোযোগী হওয়া উচিত।'
চীনে বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ কমে যাওয়ার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ভারতীয় অর্থমন্ত্রী বলেন, 'চীন এখন আর প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ওপর নির্ভরশীল নয়। দেশটি এখন পুঁজি রপ্তানিকারক দেশ। তাদের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার মজুত আছে।'
উল্লেখ্য, বর্তমানে চীনের বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ তিন লাখ ৩১ হাজার কোটি ডলার। আর বৈদেশিক বিনিয়োগ প্রবাহ হ্রাস পেলেও গত বছর তা ১০ হাজার কোটি ডলারের ওপরে ছিল।

ধর্ষণে মৃত্যুতেই শুধু নয়, একাধিক বার নৃশংস যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রেও দোষীর মৃত্যুদণ্ডই হবে।  যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত অর্ডিন্যান্স প্রকাশ করে এ কথা জানাল কেন্দ্র। বিরল থেকে বিরলতমর আওতায় একাধিকবার নৃশংস যৌন নির্যাতনকেও রাখা হয়েছে। অর্ডিন্যান্স প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী পালানিয়াপ্পন চিদাম্বরম বলেছেন, 'সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বা প্যারোলে মুক্ত থাকা ব্যক্তিরা যদি ফের অপরাধ করে, তা হলে তাদের ক্ষেত্রেও একই শাস্তি প্রযোজ্য।' তবে নয়া ফৌজদারি আইনে যেহেতু আগের অপরাধের সাজা হয় না, তাই নয়াদিল্লির গণধর্ষণ মামলা এই অর্ডিন্যান্সের আওতার বাইরে থাকবে। 
 চিদাম্বরম বলেন, জেএস ভার্মা কমিটির কোনও সুপারিশকেই কেন্দ্র অগ্রাহ্য করবে না। তিনি বলেছেন, 'প্রত্যেককে আবেদন করব, এই ধরনের ঘটনার তদন্ত গুরুত্ব সহকারে করতে।' মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান আইনের পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

ডিজেলের আংশিক বিনিয়ন্ত্রণ মুদ্রাস্ফীতির উপর 'সামান্য' প্রভাব ফেলবে, বলে মন্তব্য করলে অর্থ প্রতিমন্ত্রী নমো নারায়ণ মীনা৷ শুক্রবার লোকসভায় মীনা বলেন, ডিজেলের খুব সামান্য দাম বাড়ানো হয়েছে৷ ফলে এর খুব 'সামান্যই' প্রভাব পড়বে মুদ্রাস্ফীতিতে৷ 

এ মাসে ১৫ ফেব্রুয়ারি ফের এক দফা জ্বালানির দাম বাড়ানো হয়৷ লিটার প্রতি পেট্রলের দাম বাড়ানো হয় দেড় টাকা৷ লিটার প্রতি ডিজেলের দাম ৪৫ পয়সা বাড়ে৷ এর আগে গত ১৭ জানুয়ারি ডিজেলের দাম ৫০ পয়সা প্রতি লিটার বাড়ানো হয়৷ বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ফেব্রুয়ারির মুদ্রাস্ফীতির পরিসংখ্যান বেড়ে যাবে৷ জানুয়ারিতে পাইকারি পণ্যে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৬.৬২ শতাংশ৷ গত তিন বছরে এটাই ছিল মুদ্রাস্ফীতির সর্বনিম্ন মাত্রা৷ কিন্ত্ত মার্চ মাসে দেখা যাবে ফেব্রুয়ারিতে মুদ্রাস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী৷ কিন্ত্ত সে সব আশঙ্কা নস্যাত্ করে অর্থ প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি মুদ্রাস্ফীতিতে 'সামান্য' ছাপ ফেলতে পারে৷ এর পাশাপাশি মীনা বলেন, দ্বাদশ যোজনার (২০১২-১৭) প্রথম বর্ষে ডিজেলের দাম বাড়ানো ও এলপিজি সিলিন্ডারের সংখ্যা বেঁধে নেওয়া নিয়ে পদক্ষেপ করেছে সরকার৷ কিন্ত্ত তা সত্ত্বেও তেল সংস্থাগুলির 'আন্ডার রিকভরি' রোখা যায়নি৷ আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় আমাদের দেশে ডিজেল, পেট্রোল, কেরোসিন, প্রভৃতি জ্বালানির মূল্য অনেকটাই কম৷ কোনও জ্বালানির আন্তর্জাতিক আর দেশের বাজারে দামের ফারাককেই বলে 'আন্ডার রিকভরি'৷ অর্থাত্, সরকার নির্ধারিত মূল্যে জ্বালানি বিক্রি না করে আমদানি করা মূল্যে বিক্রি করলে যে লাভ হত সেটাই আন্ডার রিকভরি৷ 

মীনা বলেছেন, তেল সংস্থাগুলির আন্ডার রিকভরি বাড়লে সংস্থাগুলির আর্থিক অবস্থা মার খাচ্ছে৷ দ্বাদশ যোজনায় নতুন প্রকল্পের জন্য টাকাও তুলতে পাচ্ছে সংস্থাগুলি৷ কিছুদিন আগে যোজনা কমিশনের ডেপুটি চেয়ারম্যান মন্টেক সিং আলুওয়ালিয়া বলেছিলেন, 'নিকট ভবিষ্যতে ডিজেলের দামে ভর্তুকি আস্তে আস্তে কমিয়ে আনা হবে যাতে ২০১৫ সালের মাঝামাঝি ডিজেলে বেচে তেল সংস্থাগুলির আর কোনও আন্ডার রিকভারি না থাকে৷' ইন্ডিয়ান অয়েল, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম ও ভারত পেট্রোলিয়ামের পূর্বাভাস ভর্তুকি-যুক্ত দামে ডিজেল, কেরোসিন ও রান্নার গ্যাস বিক্রি করে চলতি অর্থবর্ষে তাদের ১,৬০,০০০ কোটি টাকা আন্ডার রিকভরি হবে৷ 

এ বছর ডিসেম্বরেই সংসদে তেল খাতে ভর্তুকির জন্য অতিরিক্ত ২৮,৫০০ কোটি টাকা খরচ করার অনুমোদন নিয়েছে সরকার৷ এর ফলে চলতি অর্থবর্ষে সরকারের তেল খাতে ভর্তুকি দিতেই খরচ হবে মোট ৭২,২৬০ কোটি টাকা৷ 

ভর্তুকি খরচ কমাতে পেট্রলের দর আন্তর্জাতিক দরের সমান করার কথা বলেছেন মন্ত্রী মীনা৷ তবে এটা এখনও সম্ভব নয়, সেটা তিনি স্বীকারও করেছেন৷ কিন্ত্ত দ্বাদশ যোজনার শেষ দিকে পেট্রল ও ডিজেলের দাম দুই আন্তর্জাতিক দরের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন তিনি৷ 

মূল্যবৃদ্ধি প্রসঙ্গে মীনা বলেছেন, গত চার বছর ধরে দেশে মূল্যবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী৷ তার কারণ আমাদের দেশে খাদ্যপণ্যের দাম খুব বেশি৷ যেটা অন্যান্য পণ্যের দামকে প্রভাবিত করছে৷ তবে মুদ্রাস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি রুখতে নির্দিষ্ট পণ্যের জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপ করছে সরকার বলে জানান মীনা৷ 

নিজের দায়িত্বে সাহারার সঙ্গে লেনদেন, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করল সেবি
সাহারা গ্রুপের কোনও সংস্থা ও সংস্থার প্রধান সুব্রত রায়ের সঙ্গে কোনও রকম লেনদেন থেকে সকলকে বিরত থাকতে অনুরোধ করল শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি৷ আদালতের নির্দেশে সাহারা গ্রুপের দু'টি সংস্থা ও সংস্থার প্রধান সুব্রত রায় সহ প্রত্যেক প্রমোটারের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিনিয়োগ ও সব ধরনের সম্পত্তি দখল করতে চলেছে সেবি৷ 

সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া (সেবি) বলেছে, 'কেউ যদি ওদের (সাহারা ইন্ডিয়া রিয়েল এস্টেট কর্পোরেশন লিমিটেড, সাহারা হাউজিং ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড এবং সংস্থাগুলির তিন জন প্রমোটার ও ডিরেক্টর) সঙ্গে কোনও রকম লেনদেন করেন তবে তা নিজের দায়িত্বে করবেন৷' 

সেবি জানিয়েছে, সাহারা গোষ্ঠীর অধীন সংস্থাগুলো আদালতের নির্দেশ মেনে বিনিয়োগকারীদের টাকা না ফেরানোয় ওই দুই সংস্থা এবং প্রমোটার ও ডিরেক্টর সুব্রত রায় সাহারা, বন্দনা ভার্গব, অশোক রায়চৌধুরী ও রবিশঙ্কর দুবের সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট বাজেয়ান্ত করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট৷ তাই বিজ্ঞন্তিতে সেবি বলেছে, 'ওই সংস্থা বা ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনও রকম লেনদেন না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে বিনিয়োগকারী ও সাধারণ নাগরিকদের৷' ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৬০ পাতার নির্দেশনামায় অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা ও সম্পত্তি বাজেয়ান্ত করা কথা বলেছে সেবি৷ সুপ্রিম কোর্টের আদেশ মেনেই তারা এই পদক্ষেপ করেছে৷ ২০১২ সালের অগস্ট মাসে বিনিয়োগকারীদের মোট ২৪ হাজার কোটি টাকা ফেরাতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট৷ কিন্ত্ত প্রথমে দু'লরি নথি ও পরে পাসওয়ার্ড ছাড়া সিডি পাঠানোর মতো অসহযোগিতা মূলক পদক্ষেপ করতে থাকে সাহারা৷ তা ছাড়া তালিকায় থাকা অনেক বিনিয়োগকারীরই কোনও অস্তিত্ব নেই বলেও দেখা যায়৷ 

যে সম্পত্তি বাজেয়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে পুনের অদূরে অ্যাম্বি ভ্যালি প্রকল্প, মুম্বই দিল্লি ও দেশের অন্য শহরে তাদের সম্পত্তি, শেয়ার, মিউচুয়াল ফান্ড ও অন্য বিনিয়োগ৷ সেবি তাদের নির্দেশনামায় বলেছে, দুই সংস্থা ৬,৩৮০ কোটি টাকা ও ১৯,৪০০ কোটি টাকা তুলতে নিয়ম বহির্ভূত অনেক কাজই করেছে৷ 

নির্দেশিকায় সংশ্লিষ্ট চার ব্যক্তির ব্যাঙ্ক ও ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট এখননি ফ্রিজ করার কথা বলেছে সেবি৷ সাহারা বলেছে 'পুরনো তথ্যের' উপর ভিত্তি করেই পদক্ষেপ করেছে সেবি৷ তা ছাড়া শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রকের পক্ষে ব্যক্তির সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা সঠিক নয়৷ সংস্থার দাবি, তারা বিনিয়োগকারীদের যে টাকা ফেরানোর কথা ছিল তার চেয়ে সেবিকে অতিরিক্ত ৫,১২০ কোটি টাকা বেশি তারা দিয়েছে৷ 

সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়ে সাহারা দাবি করেছিল যে 'সেবি আর কোনও টাকাই সাহারার দেওয়ার নেই বরং তারা সেবির থেকে টাকা ফেরত পাবে৷' স্বচ্ছতা প্রমাণে দুই সংস্থার আয়ব্যয়ের হিসাব গত বছর ৩১ ডিসেম্বর প্রকাশ করে সাহারা৷ ডিসেম্বর মাসেই প্রথম কিস্তির ৫,১২০ কোটি টাকা সাহারাকে দিতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট, ওই টাকা গ্রহণ করতে বলেছিল সেবিকে৷ জানুয়ারির প্রথম সন্তাহে ১০ হাজার কোটি ওফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে আরও ১০ হাজার কোটি টাকা দিতে বলেছিল সুপ্রিম কোর্ট৷ নির্দেশনামায় সেবি বলেছে কোনও ক্ষেপের টাকাই তারা সেবি থেকে পায়নি৷ 

নির্দেশনামায় সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধের নির্দেশের পাশাপাশি অ্যাম্বিভ্যালির ইকুইটি শেয়ার বাজেয়াপ্ত করার কথাও বলেছে সেবি৷ 

এয়ার এশিয়ার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছে টাটা
 দু'দশক পর আবার বিমান ব্যবসায় নামতে চলেছে টাটা গোষ্ঠী৷

এশিয়ার অন্যতম সস্তার বিমান সংস্থা এয়ার এশিয়ার হাত ধরে দেশের দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারির শহরগুলির মধ্যে বিমান পরিষেবা দিতে চায় টাটা সন্স৷ অরুণ ভাটিয়ার টেলেস্ট্রা ট্রেডপ্যালেস ও টাটা সন্সের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভারতে বিমান সংস্থা খুলতে চায় এয়ার এশিয়া৷ সেই সংস্থায় ৪৯ শতাংশ অংশীদারিত্ব চেয়ে ভারত সরকারের দ্বারস্থ হয়েছে এয়ার এশিয়া৷ টাটা ও এয়ার এশিয়ার এই যৌথ উদ্যোগের বিমান সংস্থা এখন ফরেন ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন বোর্ডের (এফআইপিবি) অপেক্ষায় রয়েছে৷ এয়ার এশিয়া জানিয়েছে, মূলত চেন্নাই থেকে ব্যবসা শুরু করতে চায় সংস্থা৷ এবং ঘরোয়া রুটেই বিমান চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে৷ এয়ার এশিয়া এই প্রকল্পে ৫০ মিলিয়ন ডলার লগ্নি করবে বলে জানা গিয়েছে। চলতি বছরের চতুর্থ কোয়ার্টারে এই পরিষেবা শুরু হতে চলেছে। 

গত সেপ্টেম্বরে ভারতীয় বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে ৪৯ শতাংশ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমোদন দেয় সরকার৷ তার পর এই সুবিধার লাভ ওঠাতে প্রথমে ময়দানে নেমে পড়ে জেট এয়ারওয়েজে৷ আবু ধাবির বিমান সংস্থা এতিহাদের সঙ্গে অংশীদারিত্ব বিক্রির চুক্তি করে জেট৷ ১৬০০ কোটি টাকার বিনিময়ে জেটের ২৪ শতাংশ অংশীদারিত্ব কিনে নিতে রাজি হয় এতিহাদ৷ যদিও এখনও পর্যন্ত এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়নি৷ জেটের পরই টাটা ও এয়ার এশিয়ার এই যৌথ বিমান ব্যবসার খবর প্রকাশ্যে এল৷

ভারতের এই বিমান সংস্থায় ৪৯ শতাংশ অংশীদারিত্ব চায় এয়ার এশিয়া৷ বাকি অংশীদারিত্ব টাটা সন্স ও টেলেস্ট্রার মধ্যে ভাগাভাগি হবে৷ বিনিয়োগ শাখা এয়ার এশিয়া ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে ভারতীয় বিমান পরিবহণ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ হবে বলে জানিয়েছে এয়ার এশিয়া৷ এই মর্মে এফআইপিবি-র কাছে আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে৷

মালয়েশীয় সংস্থা এয়ার এশিয়ার প্রধান টনি ফার্নান্ডেজ৷ তিনি ও টেলেস্ট্রার অরুণ ভাটিয়ার ছেলে অমিত ভাটিয়া ব্রিটিশ ফুটবল টিম কুইনস পাক রেঞ্জার্সের যৌথ মালিক৷ অমিত ভাটিয়া আবার স্টিল জায়েন্ট লক্ষ্মী মিত্তলের জামাই৷ ভাটিয়াদের সঙ্গে বিমান ব্যবসায় নামতে চাওয়া এয়ার এশিয়া টাটা সন্সকেও সঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছে৷ দু'দশক আগে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে বিমান ব্যবসায় নামতে চেয়েছিল৷ টাটার বিমান ব্যবসায় ৪০ শতাংশ অংশীদারিত্ব কিনতে চেয়েছিল সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স৷ কিন্ত্ত টাটাদের সেই ১,৪৭৫ কোটি টাকা প্রস্তাব এফআইপিবি-র টালবাহানায় ভেস্তে যায়৷ ১৯৯০ সালের সেই অভিজ্ঞতার কথা মনে করেই বিদায়ের আগে এক সাক্ষাত্কারে রতন টাটা বলেছিলেন, বিমান ব্যবসায় আর প্রবেশ করতে রাজি নয় টাটা গোষ্ঠী৷ কিন্ত্ত এখন সেই অবস্থান পাল্টেছে টাটা সন্স৷

টনি ফার্নান্ডেজ জানিয়েছেন, এই বিমান ব্যবসা নিয়ে তিন পক্ষের মধ্যে মউ চুক্তি হয়েছে৷ অংশাদারিত্বের বিভিন্ন শর্তাবলি নিয়ে তিন তরফেই আলোচনা হয়েছে৷ অপারেটর্স পারমিট পেতে অসামরিক বিমান পরিবহণ নিয়ন্ত্রকেরও দ্বারস্থ হয়েছে এয়ার এশিয়া৷ ভারতের বিমান ক্ষেত্র প্রসঙ্গে টনি বলেছেন, 'ভারতে বিমান ব্যবসার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে৷ গত কয়েক বছর ধরে আমরা এ দেশের বিমান ব্যবসার উপর নজর রাখছি৷ ভারতে সস্তার বিমান বাজারে প্রবেশ করে এটা আদর্শ সময় বলে মনে করি৷ আমরা মূলত চেন্নাই-তামিলনাড়ু অঞ্চল থেকে অপারেট করতে চাই৷ দেশের ছোট শহরগুলির মধ্যে বিমান পরিষেবা দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য৷'

যৌথ উদ্যোগের বিমান ব্যবসা ঘোষণার পাশাপাশি এয়ার এশিয়া জানায় ২৫ মার্চ থেকে কুয়ালা লামপুর ও কলকাতার মধ্যে নিত্য উড়ান চালু করবে সংস্থা৷ আপাতত সন্তাহে তিন দিন-মঙ্গলবার, বৃহস্পতিবার ও শনিবার এই রুটে বিমান চালায় এয়ার এশিয়া৷ এ ছাড়া ৩ মার্চ পর্যন্ত এই রুটে যাওয়া-আসা দু'পিঠের ভাড়া মাত্র ৯৯৯৯ টাকা করার ঘোষণা করেছে সংস্থা৷

১১৮টি বিমান নিয়ে ব্যবসা চালানো এয়ার এশিয়া বর্তমানে কলকাতা, চেন্নাই, কোচি, তিরুচিরাপল্লি, বেঙ্গালুরু থেকে আসিয়ান গোষ্ঠী-ভুক্ত দেশগুলির মধ্যে বিমান পরিষেবা দেয়৷

বাজেটে ১০০টি নতুন ট্রেন, ৫৮৩টিতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা

 ডাবল ডেকার এসি রেক ও প্যাসেঞ্জার ট্রেন সহ এবারের রেল বাজেটে মোটামুটি ১০০টি নতুন ট্রেনের কথা ঘোষণা হতে পারে৷ এ ছাড়া বিভিন্ন রাজ্যের দাবি মেনে ট্রেনের রুটও প্রসারিত হতে পারে৷ অন বোর্ড হাউস কিপিং স্কিম (ওবিএইচএস) চালু করার জন্য ৫৪৩টি ট্রেন চিহ্নিত করতে পারে ভারতীয় রেল৷ বাজেট ঘোষণা যাতে বাস্তবায়িত করা যায় সে জন্য ৪২০০টি নতুন কোচ তৈরির কথাও বাজেটে ঘোষণা হতে পারে, এর মধ্যে থাকছে ৬০০টি এলএইচবি কোচ৷ কাপুরথালায় জার্মান সংস্থা লিঙ্ক হফম্যান বুস (এলএইচবি)-এর তৈরি কোচ ২০০০ সাল থেকেই ব্রড গেজ লাইনে ব্যবহার করা হচ্ছে৷ ৬৭০টি নতুন লোকোমোটিভ তৈরির কথাও এ বারের রেল বাজেটে ঘোষণা হতে পারে৷ এর মধ্যে ২০টি এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) লোকোমোটিভও থাকছে৷ 

১৬ হাজার নতুন ওয়াগন তৈরির কথাও থাকতে পারে রেল বাজেট প্রস্তাবে৷ গত বছর ১৭৫টি নতুন ট্রেনের কথা ঘোষণা হলেও এ বছর নতুন ট্রেন হবে ১০০টি মতো৷ রেলমন্ত্রক সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা জানিয়েছে, এবারের বাজেটে মূলত যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যের দিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে৷ নজর দেওয়া হবে উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে৷ 

২৬ ফেব্রয়ারি রেল বাজেট প্রস্তাবে রেলের পরিচ্ছন্নতার জন্য ওবিএইচএস নিয়োগের কথা ঘোষণা হতে চলেছে৷ এ জন্য ৫৪৩টি ট্রেনকে চিহ্নিত করা হয়েছে৷ এ ছাড়া পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে যন্ত্রচালিত ১০টি লন্ড্রি চালু করার কথাও ঘোষণা হতে পারে৷ 

ট্রেনের অন্য কামরার তুলনায় এসি কোচ ও প্যান্ট্রি কারগুলিতে আগুন লাগার আশঙ্কা বেশি, তাই এগুলিতে বিশেষ অগ্নি নিরোধক ব্যবস্থা চালু করার কথা ঘোষণা হতে পারে রেল বাজেটে৷ 

অর্থাভাবে ধুঁকতে থাকা রেল এই অর্থবর্ষের জন্য ২৪ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে৷ আগামী অর্থবর্ষে খরচ চালানোর জন্য ৩৮ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে রেল, তবে মনে করা হচ্ছে ২৮ হাজার কোটি টাকা মতো দেবে অর্থমন্ত্রক৷

ভারতে ঢুকতে ১২৫ কোটি টাকা দিয়েছে ওয়ালমার্ট

ভারতের বাজারে ঢোকার সুযোগ করে দিতে গত চার বছর ধরে মার্কিন সেনেটকে তদবির করে এসেছে ওয়াল মার্ট৷ আর মার্কিন রাজনৈতিক মহলে এই 'লবি' করতে গিয়ে ১২৫ কোটি টাকা খরচও করেছে ওই সংস্থা৷ ওয়াল মার্টের তরফে প্রকাশিত এক রিপোর্টে রবিবার এ কথা জানা গিয়েছে৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী 'লবি' খাতে খরচ হওয়া অর্থের খতিয়ান দিতে গিয়ে একথা জানিয়েছে বিশ্বের সর্ববৃহত্‍ খুচরো ব্যবসায়ী সংস্থা ওয়াল মার্ট৷ রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া ত্রৈমাসিকেই মার্কিন সেনেটে ১০ কোটি টাকা দিয়েছে সংস্থাটি৷ প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ইস্যুতে ভারতের অবস্থানকে প্রভাবিত করার জন্য পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে ওই টাকা পাঠিয়েছে ওয়ালমার্ট৷ সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকের রিপোর্ট বলছে, ভারতে ওয়ালমার্টের ব্যবসার পথ সুগম করতে মার্কিন সেনেট, মার্কিন হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস, মার্কিন ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ ও মার্কিন বিদেশ দফতরকে পয়সা দিয়েছে সংস্থাটি৷ উল্লেখ্য, ১৪ সেপ্টেম্বর ভারতে বহুব্র্যান্ডের খুচরো ব্যবসায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷

ওয়ালমার্টের এই রিপোর্ট নিয়ে সোমবার থেকে শুরু হওয়া সন্তাহে সংসদে জোর রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হবে বলে এখানকার রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন৷ গত সন্তাহেই সংসদের দুই কক্ষে বহুব্র্যান্ড খুচরো ব্যবসায় বিদেশি বিনিয়োগের বিষয়টি ভোটাভুটির মাধ্যমে অনুমোদিত হয়৷ এর পর (ভারতীয় সময়) রবিবার ওয়ালমার্টের রির্পোট প্রকাশিত হয়৷

কোনও সংস্থা তাদের নিজেদের কাজ হাসিল করতে একটি গ্রুপ ঠিক করে৷ যারা জনসংযোগ আধিকারিকদের মতো সেই সংস্থা লাভের জন্য রাজনৈতিক, কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহলে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করে৷ এরই নাম 'লবি' করা৷

মার্কিন মুলুকে 'লবি' আইনসিদ্ধ৷ যদিও ভারতে এই প্রবণতা আইন স্বীকৃত নয়৷ লবিস্টদের কাজ হল, পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে তা নিজেদের অনূকূলে আনা৷ এফডিআইয়ের অনুমোদন দিতে মার্কিন সরকার যাতে ভরত সরকারকে প্রভাবিত করে তাই মার্কিন সেনেটর ও রিপ্রেজেন্টেটিভদের কাজে লাগিয়েছিল ওয়ালমার্ট৷ দেখা গিয়েছে, শুধু ২০১২ সালেই ভারত সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুতে লবি করার জন্য মার্কিন সরকারকে এখনও পর্যন্ত ১৮ কোটি টাকা দিয়েছে ওয়ালমার্ট৷ এই লবি করার জন্য টাকার লেনদেন চলেছে ২০০৮ সাল থেকে৷ যদিও মাঝে ২০০৯ সালে কিছু মাসের জন্য তা বন্ধ ছিল৷

গত বছর নভেম্বরে একক ও বহুব্র্যান্ডের খুচরো ব্যবসায় সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছিল সরকার৷ কিন্ত্ত, বিরোধীদের প্রবল প্রতিবাদে ডিসেম্বরে সেই সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখে সরকার৷ ঐকমত্য না হওয়ায় সংস্কার বাক্সবন্দিই ছিল৷ ২০১১-র আগে খুচরো ব্যবসায় বিদেশি পুঁজি প্রবেশ করানোর বিরোধিতা করেছে এসেছিল খোদ সরকারই৷ এ বছর ১৪ সেপ্টেম্বর বহুব্র্যান্ডের খুচরো ব্যবসায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের প্রস্তাবে সিলমোহর দেয় ইউপিএ সরকার৷ যার জেরে সরকার ছেড়ে বেরিয়ে যায় অন্যতম শরিক দল তৃণমূল কংগ্রেস৷

এক বছরের মধ্যে সংস্কার নিয়ে সরকারের এই তড়িঘড়ির পেছনে অনেকেই মার্কিন সরকারের প্রভাবের ইঙ্গিত খুঁজছেন৷ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তর বাজার ভারত৷ বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী ভারতে খুচরো ব্যবসার পরিমাণ ৪৫ লক্ষ কোটি টাকা৷ এই বাজারে ওয়ালমার্টের প্রবেশ কি মার্কিন অথর্নীতির উদ্ধারে কোনও ভূমিকা গ্রহণ করবে না? বিশেষজ্ঞদের মত, অবশ্যই করবে৷ ২০১০ সাল নাগাদ ভারতে খুচরো ব্যবসার বাজার ৫৪ লক্ষ কোটি হবে বলে অনুমান৷ যে কারণে ভারতের আর্থিক সংস্কার সম্পর্কে এত চিন্তিত ওবামা প্রশাসন৷

এ প্রসঙ্গে অবশ্য মার্কিন বিদেশনীতি 'বানানা রিপাবলিক' তত্ত্বের কথা তুলে ধরতেই হয়৷ চিলি, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, এল সালভাদর, নিকারাগুয়া, দমিনিকান রিপাবলিকের মতো দক্ষিণ আমেরিকান রাষ্ট্রগুলিতে খুব ভালো ফলের চাষ হয়৷ বিশেষ করে কলা৷ ১৯৫০-৬০ এর দশকে আন্তর্জাতিক কলা বাজারে মার্কিন সংস্থা ইউনাইটেড ফ্রুট কোম্পানির একচেটিয়া ব্যবসা ছিল৷ দক্ষিণ আমেরিকার এসব দেশে কলার খেত নিয়ন্ত্রণ করতে ইউনাইটেজ ফ্রুট কোম্পানি৷ কিন্ত্ত সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রপ্রধানরা আমেরিকার এই আধিপত্য মেনে নিতে পারেননি৷ ইউনাইটেড ফ্রুট কোম্পানির সঙ্গে লেনদেন বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় চিলি সরকার৷ চিলির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট সালভাদর আলেন্দে এই সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন রোষে পড়েন৷ ইতিহাস বলে আমেরিকা সিআইএ চর লাগিয়ে আলেন্দেকে ক্ষমতাচ্যূত করেন৷ এই কাজে লাগানো হয় চিলির তত্কালীন সামরিক প্রধান অগস্টো পিনোশেকে৷ আলেন্দের মৃত্যূদণ্ড হয়৷ দেশে একনায়কতন্ত্র চালান পিনোশে৷

১৯৫৮-এ তত্‍কালীন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট নিক্সন লাতিন আমেরিকা সফরে বেরোন৷ ঘুরে এসে লাতিন আমেরিকা অনুন্নত দেশগুলি আর্থিক উন্নতিতে সাহায্য করার কথা বলেন নিক্সন৷ ফন্দি ছিল এই ফাঁকে লাতিন আমেকিার কৃষি ভিত্তিক অর্থনীতিকে মার্কিন সংস্থাজের হাতের মুঠোয় এনে দেওয়া৷ ১৯৬১-এ লাতিন আমেরিকার জন্য 'অ্যালায়েন্স ফর প্রগ্রেস' নীতি প্রণয়ন করেন প্রেসিডেন্ট কেনেডি৷ যার মূল লক্ষ্য ছিল পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে মার্কিন বিরোধী মনোভাবকে গোড়া থেকে উপড়ে ফেলা৷ যার জেরে আলেন্দে ক্ষমতাচ্যূত হয়েছিলেন৷ একই হাল হয়েছিল বাকি দেশগুলির সমাজতান্ত্রিক নেতাদের৷ এসব দেশে মার্কিন সরকার তাদের পছন্দের লোক বসিয়েছিল৷ যাতে মার্কিন অর্থনীতি স্বার্থে এতটুকু ঘা না লাগে৷

ভারতে এফডিআইকে স্বাগত আমেরিকার

খুচরো ব্যবসায় বিদেশি বিনিয়োগকে অনুমোদন দিয়েছে ভারতীয় সংসদ। সংসদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন বিদেশ দফতরের মার্ক টোনার আশাপ্রকাশ করেছেন, এবার, উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশগুলির মতোই ভারতের খুচরো বাজারেও বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ বাড়বে। একইসঙ্গে তাঁর দাবি, এর ফলে ভারতের কৃষক সমাজের পাশাপাশি উপকৃত হবেন ছোটো ব্যবসায়ীরাও। 

ছমাসও কাটেনি। বদলে গেল ভারত নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি। আর্থিক সংস্কার নিয়ে সিদ্ধান্তগ্রহণে দেরি করায় একসময় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল মার্কিন সংবাদমাধ্যম। এফডিআই নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরেই বদলে যায় ছবিটা। সেই মার্কিন সংবাদমাধ্যমেই প্রশংসার ঝাঁপি উপুড় করে সাধুবাদ জানিয়েছিল ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীকে। এবার আবার। এফডিআইয়ের সংসদীয় অনুমোদনকে স্বাগত জানাল আমেরিকা। মার্কিন বিদেশ দফতরের মুখপাত্র মার্ক টোনার জানিয়েছেন, ``বহুব্র্যান্ডের খুচরো ব্যবসায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগে অনুমোদন দিয়েছে ভারতীয় সংসদ। এই সিদ্ধান্তকে আমরা স্বাগত জানাচ্ছি।``

এফডিআইকে ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ভারতীয় সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে হওয়ায়, সন্তোষ প্রকাশ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। টোনার বলেছেন, 
রাজনৈতিক উপায়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেখানে সবপক্ষের কাছেই সুযোগ ছিল নিজের মতামত প্রকাশ করার। তারপরেই এই সিদ্ধান্তকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। 

একইসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আশ্বাস, কৃষকসমাজের পাশাপাশি, এফডিআই থেকে উপকৃত হবেন ভারতের ছোটো ব্যবসায়ীরাও। এফডিআইয়ের ফলে, কৃষক ও খুচরো ব্যবসায়ীদেরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। এর ফলে খাদ্যপণ্যের দাম কমে গিয়ে উপকৃত হবেন উপভোক্তারা। তেমনই, পরিকাঠামো ক্ষেত্রেও বিনিয়োগ আসবে। মার্কিন বিদেশমন্ত্রকের পাশাপাশি, ইন্দো-মার্কিন বিজনেস কাউন্সিলের পক্ষ থেকেও এফডিআইয়ের সংসদীয় অনুমোদনকে স্বাগত জানানো হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী বাণিজ্যিক চাহিদার কাছে দেশীয় বাজারকে সঁপে দিচ্ছে মনমোহন সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সেই অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও, মার্কিন বিদেশমন্ত্রকের বার্তা সামনে আসার পর এ নিয়ে বিরোধীরা ফের সরব হবেন বলে ধারনা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের। 


দ্রুত উন্নয়নশীল দেশের পথে ভারত
যে সব দেশ পৃথিবীর অর্থনৈতিক মানচিত্রে নিজেদের অবস্থান পাল্টে শক্তিশালী ও দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তাদের মধ্যে ভারত শীর্ষস্থানীয়। ভারত পৃথিবীর শীর্ষস্থানীয় উন্নয়নশীল অর্থনীতির তালিকায় দ্বিতীয়। চীনের পর পরই ভারতের অবস্থান। বিশ্ববিখ্যাত ব্যাংকার গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলো হলো ব্রিকসভুক্তদেশসমূহ অর্থাৎ ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত ও চীন। এই প্রতিষ্ঠানের মতে, ২০১৩ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি হবে ৬.৫%। 'বিশ্বব্যাংকের গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টার্স' রিপোর্ট অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি ও আর্থিক ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও ২০১২-১৩, ২০১৩-১৪, ২০১৪-১৫ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে যথাক্রমে ৬.৯%, ৭.২% এবং ৭.৪%। যেখানে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি মাত্র ২.৫% বৃদ্ধি পাবে। অন্যদিকে দি ইকোনমিক টাইমসের মতে, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল নাগাদ ভারত হবে পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুত উন্নয়নশীল দেশ। এ সময় ভারতের জিডিপি চীনের জিডিপিকে অতিক্রম করবে। এর সমতা তত্ত্ব অনুযায়ী ভারত পৃথিবীর চতুর্থ বৃহৎ অর্থনীতির দেশ। আইএমএফ তার সাম্পতিক অর্থনৈতিক পূর্বানুমানে ভারতকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রেখেছে।
ভারতের এ অর্থনৈতিক উন্নতি মূলত শুরু হয়েছিল নব্বইয়ের দশকে। ১৯৯১ সালের অর্থনৈতিক সঙ্কটের পর ভারত তার অর্থনীতি ব্যাপক সংস্কার করে। পরিবর্তন আনে মুদ্রানীতি ও আর্থিক নীতিতেও। এর ফলে ভারতের অর্থনীতি চাঙ্গা হয়। ফলে ১৯৯৪ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত পরপর তিন বছর ভারতের প্রবৃদ্ধি ছিল ৭% এবং মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কের সংখ্যা থেকে এক অঙ্কের সংখ্যায় চলে আসে অর্থাৎ ৭%। তারপর থেকে ভারতের অর্থনীতিতে সুদিন ফিরে আসে। ২০০১-২০০২ সালে ভারতের মুদ্রার মূল্য বৃদ্ধি পেতে থাকে ০.৫% হারে যা তার আগের বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেয়েছিল। এই মূল্যবৃদ্ধির প্রধান কারণ ছিল প্রচুর পরিমাণ ডলারের আন্তঃপ্রবেশ। ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের চাকাকে গতিশীল করতে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি কাজ করছে তা হলো- সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ। ভারত পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক বিনিয়োগের দেশ হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে টেলিকমিউনিকেশনস্, অটোমোবাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস ও তথ্যপ্রযুক্তি ইত্যাদি খাতে সহজ নিবন্ধন ও সরকারী পৃষ্ঠপোষকতার কারণে নতুন নতুন অনেক বিদেশী কোম্পানি ভারতে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করছে। আর তাদের সহায়তা করতেই ভারত সরকার গঠন করেছে বৈদেশিক বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ড (এফআইপিবি) ও ফরেন ইনভেস্টমেন্ট সেন্টার যারা রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈদেশিক বিনিয়োগে সহায়তা প্রদান করে। 
ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে মানব সম্পদ। ভারত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে প্রথম অবস্থান অধিকারী। ২০১১ আর্থিক বছরে ভারত ৬৪ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। বৈদেশিক আয় ভারতের জিডিপির সিংহভাগ দখল করে আছে। অনেক অর্থনীতিবিদের মতে, আগামী কয়েক বছরে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগকে পেছনে ফেলে রেমিট্যান্স আয়ই হবে ভারতের অর্থনীতির মূল ভিত্তি। যা ইতোমধ্যে সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিশাল ভূমিকা পালন করছে। ভারতের দারিদ্র্য দূরীকরণে রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। সাধারণত গরিব জনগোষ্ঠী কাজের প্রয়োজনে বিদেশে পাড়ি জমায় বলে ভারত মানব সম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে তার বিপুল জনসংখ্যাকে জনসম্পদে পরিণত করেছে। 
কৃষি উৎপাদন ভারতের জাতীয় অর্থনীতির তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। বিশ্ব বাজারে কৃষি উৎপাদনে ভারতকে দ্বিতীয় মনে করা হয়। কৃষি উৎপাদন ভারতের সামগ্রিক জিডিপির ১৮.৬%। পাশাপাশি ভারতের ৬০ ভাগ লোকের কর্মসংস্থান আসে এই কৃষি খাত থেকে। কৃষি ফসলের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো কাজু বাদাম ও ব্ল্যাক পিপার। অনেক খাদ্য উৎপাদনে ভারত এখন স্বয়ংসম্পূর্ণ। দেশী চাহিদা মেটানোর সাথে সাথে তা রফতানি করে অনেক বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করছে ভারত। 
চতুর্থ গুরুত্বপূর্ণ উপাদান যা ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করছে তাহলো তথ্যপ্রযুক্তি। ভারত তথ্যপ্রযুক্তিতে রীতিমত বিপ্লব ঘটিয়েছে। উন্নত দেশগুলোর সাথে পাল্লা দিয়ে ভারত তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে। রেমিট্যান্স আয়ের প্রায় ২৬% আসে সফটওয়্যার উন্নয়নের মাধ্যমে। ভারতের আছে নিজস্ব স্যাটেলাইট, যার সাহায্য নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাত এগিয়ে যাচ্ছে দ্রুতগতিতে। 
পঞ্চম গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতে ভারত ব্যাপক উন্নয়ন সাধন করেছে। ভারতের শেয়ারবাজার এখন আন্তর্জাতিক পুঁজি বিনিয়োগের অন্যতম বাজার হিসেবে পরিচিত। আর্থিক ও ব্যাংকিং খাতসমূহের প্রয়োজনীয় ও সময়োপযোগী সংস্কার এ খাতের বিস্তারকে ত্বরান্বিত করেছে। বর্তমানে দেশটিতে ব্যাংকিং সেবা প্রায় সবখানে পৌঁছে গেছে। ব্যাংকের প্রদত্ত ঋণের ৪০% কৃষি ও শিল্প খাতে দেয়ার নিয়ম রাখায় সে খাতগুলো দ্রুত বিকশিত হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে এটি দেশের বাজেট ইস্যুতেও ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে। 
অনেক সুসংবাদের পাশাপাশি কিছু দুঃসংবাদও রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের মতে, আসছে বছরগুলোতে উন্নয়নশীল দেশগুলো কঠিন অর্থনৈতিক সময় পার করবে। এই বছরগুলোতে অনেক দেশের অর্থনীতির ভিত্তি শক্ত হতে পারে আবার অনেকের অর্থনৈতিক অবস্থা নড়বড়ে হতে পারে। ভারতের প্রবৃদ্ধি সচল রাখতে সবচেয়ে বড় বাধা হলো গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কট। দ্রুত শিল্পায়নের ফলে সে দেশের গ্যাস ও বিদ্যুৎ চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পাচ্ছে যা পূরণে ভারত সরকার রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে। শিল্প উন্নয়নের চাকা সচল রাখতে হলে এ সমস্যার সমাধান অতীব জরুরী। তা না হলে প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জন ব্যাহত হতে পারে। 
নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন বলেন, 'দেশের উন্নয়ন পরিমাপে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই একমাত্র মাপকাঠি নয়।' প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধির পাশাপাশি জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের দিকনির্দেশক। ভারত যে হারে তার জিডিপি বৃদ্ধি করে যাচ্ছে দেশের মানুষের জীবনযাত্রার মান সে হারে উন্নত হচ্ছে না। কিছু জনগোষ্ঠী বিপুল সম্পদের মালিক হলেও বেশিরভাগ অঞ্চলে দারিদ্র্যপীড়িত জনগোষ্ঠীর সংখ্যাই বেশি। আয়-বৈষম্য ভারতে চরম আকারে দেখা যায়। এই অসমতা দূর করতে চাই সম্পদের সুষম বণ্টন ও স্থির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি। আর এটা করা সম্ভব হলে ভারত হয়ে উঠবে নতুন অর্থনৈতিক পরাশক্তি।

লেখক : মোঃ আনিসুর রহমান শ্রাবণ, মোঃ সাকিব চৌধুরী, অনন্যা চৌধুরী, সানজিদা হাওলাদার, সাবরিনা ইসলাম (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বিবিএ ফিন্যান্স ১৭তম ব্যাচ ম্যাক্রো ইকোনমিক ল্যাবের সদস্য)
http://www.dailyjanakantha.com/news_view.php?nc=41&dd=2013-02-03&ni=124519

নতুন ভারতে নতুন কংগ্রেসই লক্ষ্য রাহুলের

মন্দা মোকাবিলায় কড়া দাওয়াইয়ের ইঙ্গিত প্রধানমন্ত্রীর

Update: June 19, 2012 21:38 IST

দেশের আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ কমাতে ভর্তূকিতে রাশ টানার পাশাপাশি আরও কিছু কড়া পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র। মেক্সিকোয় জি-২০ সম্মেলনে একথা জানালেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। ভারতের বাজারে বিদেশি লগ্নিকারীদের আস্থা ফেরাতে উদ্যোগের ওপরও জোর দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর মতে, ইউরোজোনের সঙ্কট যে ভাবে তৃতীয়  বিশ্বেও প্রভাব ফেলছে, তা রুখতে অবিলম্বে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে হবে জি-২০-কে। ইউরোজোনে স্থিতিশীলতা আনতে ইতিমধ্যে আইএমএফে একশো কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারত।

ইউরোজোনের টালমাটাল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ফের খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বিশ্ব অর্থনীতিকে। বর্তমান বিশ্বে ইউরোজোনের সঙ্কট শুধু প্রথম বিশ্বেই সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রভাব ছড়িয়েছে তৃতীয় বিশ্বেও। ফলে একদিকে যেমন অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়ছে, অন্যদিকে মার খাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের আস্থা। এই পরিস্থিতিতে জি-২০কে কিছু দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। অর্থনীতিবিদদের মতে, দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি ইউপিএ সরকারের পক্ষে বড় উদ্বেগের কারণ। গত এক বছরে আর্থিক ঘাটতির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। কমেছে জাতীয় উত্‍পাদনের হারও। এই পরিস্থিতিতে তাই বাধ্য হয়েই মন্দা মোকাবিলায় ভর্তূকিতে রাশ টানার পাশাপাশি আরও কিছু কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। যদিও ৭ রেসকোর্স রোডের বাসিন্দার বক্তব্য, "অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ২০০৮ সালে আমরা ঘাটতির পরিমাণ বাড়তে দিয়েছিলাম। এবার আমরা ঘাটতি কমাতে উদ্যোগী হয়েছি। তার জন্য ভর্তুকি নিয়ন্ত্রণের মত কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।"
 
মার্কিন আর্থিক মূল্যায়ন সংস্থা ফিচ-এর সাম্প্রতিক রেটিংয়ে ভারতের ঋণযোগ্যতার মান কমেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতীয় বাজারে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোর বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রী। দেশের বাজারে বিদেশি প্রতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ছে বলেই মঙ্গলবার জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী প্রণব মুখার্জিও। এমতাবস্থায় মেক্সিকোয় জি-২০-র মঞ্চে দাঁড়িয়ে দেশকে আর্থিক বৃদ্ধির পথে ফেরাতে সংস্কারমুলক কর্মসূচির ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা না ফিরলে, ভারতীয় অর্থনীতিকে বৃদ্ধির পথে ফেরানো কঠিন। এক্ষেত্রে দ্রুত ইউরোজোনে সঙ্কট দুর করার ওপর জোর দেন তিনি। ইউরোজোনের সঙ্কট মোকাবিলায় ইতিমধ্যে বিশ্ব অর্থ ভাণ্ডারে ১০০০ কোটি ডলার অনুদান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ভারত।

http://zeenews.india.com/bengali/nation/g20-reaffirm-commitment-to-growth-job-creation_6303.html


আগামী ছ‍`মাসেই গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার, আশাবাদী কৌশিক ব

pdate: April 22, 2012 13:17 IST
  • আগামী ৬ মাসেই আর্থিক ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের পথে হাঁটতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। এমনটাই মনে করছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কোশিক বসু। 

    শনিবার সংবাদসংস্থা পিটিআই`কে কৌশিক বসু জানিয়েছেন, ডিজেলের মূল্যের ওপর থেকে ভর্তুকি প্রত্যাহার এবং বহুব্র্যান্ডের খুচরো ব্যবসায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্র। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে পণ্য পরিষেবা কর চালু করা কেন্দ্রের পক্ষে সহজ হবে। কিন্তু, খুচরো ব্যবসায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলেই মনে করছেন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা। 

    তাঁর দাবি, বহু ব্র্যান্ডের খুচরো ব্যবসায় বিদেশি বিনিয়োগে ছোটো চাষিরা উপকৃত হবেন। ডিজেলের মূল্যের ওপর আংশিক ভর্তুকি প্রত্যাহার করা হতে পারে বলেও আশাপ্রকাশ করেছেন কৌশিকবাবু। প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগেই কৌশিক বসু জানিয়ে ছিলেন, আগামী দু`বছর সংসদে বড় ধরনের আর্থিক সংস্কার সংক্রান্ত কোনও বিল আনা হবে না। তবে ২০১৫ সাল থেকে ভারতকে বিশ্বের দ্রুততম আর্থিক বৃদ্ধিসম্পন্ন দেশগুলির সমপর্যায়ভুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। 

    http://zeenews.india.com/bengali/nation/india-to-see-some-important-reforms-in-next-6-months-kaushik-basu_5006.html


    Indian Economy: Imperatives for Second Generation Reforms
    (Address by Dr. K. C. Chakrabarty, Deputy Governor, Reserve Bank of India at the Inaugural Session of the State level seminar organized by the Department of Economics of the Vivekananda Education Society's College of Arts, Science and Commerce, Mumbai on September 14, 2012)

    Dr. Suresh Kotak, Chairman, Kotak and Co. Ltd.; Dr. J. Phadnis, Principal of the VES College of Arts, Science and Commerce; Shri B.L. Boolani, Trustee In-charge; Dr. Suniti Nagpurkar, Head of the Economics Department and Convener of the Seminar, Mrs. Dipta Dasgupta, my old friend from the Banaras Hindu University; faculty members and students participating in the Seminar, Ladies and Gentlemen. It is, indeed, a matter of great pleasure and privilege for me that I have been called upon to address today's Seminar, which indeed is topical, given the changing contours of the financial regulatory architecture amidst uncertain global financial market environment. The global banking and financial system is currently undergoing structural transformation with standard setting institutions and national authorities framing new regulatory paradigms to address the weaknesses of the global financial system that surfaced during the crisis. Against this backdrop, I am delighted that the Vivekananda Education Society is conducting this State level Seminar on this subject.

    2. The Vivekananda Education Society, which started its educational activities in 1962, today imparts education to more than 18000 students ranging from primary school to advanced learning in diverse areas such as management, law, engineering, science, etc. With a mission of "Pursuit of Excellence in Higher Education", the society has sought to impart quality education and help in character building in students. I am told that the society and this college in particular, were set up to cater to the needs of the socially and economically weaker sections of the population, in line with the recognition that education provides opportunities for improvement in quality of life of these deprived sections. I congratulate the Society for completion of 50 glorious years and commend its achievements over this period. I hope that it continues its good work in the times to come.

    3. I must admit that interacting with a gathering of teachers and students provides us with an opportunity to get a different perspective on issues from what we normally get while interacting with fellow finance professionals. Besides, interacting with teachers provides a platform to convey our ideas, through you, to a much larger audience consisting of young minds who will define the path that the country and the financial sector will take in the years to come. It is, hence, a great pleasure for me to be here today.

    Swami Vivekananda- A Great Reformer Himself

    4. On the eve of the Golden Jubilee celebrations of the Vivekananda Education Society, it is apt to recall Swami Vivekananda, from whom the College derives its name and inspiration. Swami Vivekananda was a great thinker and reformer of India who envisioned a new educational model for the society. His valuable thoughts on education are relevant and viable even today. According to him, 'education is the manifestation of the perfection already in man'. He said "mere book-learning won't do. We want that education by which character is formed, strength of mind is increased, the intellect is expanded, and by which one can stand on one's own feet". He taught that it is only through education that the upliftment of masses is possible. However, Swami Vivekananda's scheme of education, through which he wanted to build a strong nation that will lead the world towards peace and harmony, is still a far cry. It is high time that we give serious thought to his philosophy of education and remember his call to every-body-'Arise, awake, and stop not till the goal is reached.' I hope the society pursues this vision of Swami Vivekananda.

    5. Swamiji's most unique contribution to the creation of new India was to open the minds of Indians to their duty to the downtrodden masses. He was the first religious leader in India to understand and openly declare that the real cause of India's deep rooted problems was the neglect of the masses. Long before the ideas of Karl Marx were known in India, Swamiji spoke about the role of the labouring classes in the production of the country's wealth.

    6. Having said this, let me come back to the realm of financial sector reforms in India. As many of you are aware, the Indian financial sector has seen wide ranging reforms during the last two decades. However, these reforms were broader and focused at the macro level with internal reforms at the institutional level yet to take place. Thus, the need of the hour is to go for second generation reforms. Nonetheless, the reforms in the financial sector alone will not bring perpetual prosperity. It is the real sector which needs reforms. The financial sector has to grow and keep pace with the developments in the real sector.

    Why Financial Sector Regulation?

    7. On an intuitive basis, the business of finance and banking is different from other businesses. This is on account of the fact that while other businesses operate with their own funds, banks are highly leveraged institutions that operate with public money and hence, require to be closely regulated and supervised. Besides, unlike other businesses where, due to absence of entry barriers, free market competition can be expected to ensure efficiency and fair treatment of customers, in the banking business, high entry barriers imply that banking operations cannot be carried out without a license. This restricts the free play of competitive forces and hence, makes it all the more imperative to have a sound regulatory framework, particularly for protection of customers. In the business of banking and finance, there is an inherent inequity between the provider of the service and the consumer and this, again, presents the need for a framework of rules and procedures, which we call as regulation.

    8. The health of the financial sector is a matter of public policy concern in view of its critical contribution to economic performance. Financial regulation and supervision assumes importance in ensuring that the financial system operates along sound lines. The primary justification for financial regulation by authorities is to prevent systemic risk, avoid financial crises, protect depositors' interest and reduce asymmetry of information between depositors and banks. As the costs of financial crises are perceived to be very high, the authorities realised that they should be avoided at all costs. As a result, banks came to be regulated everywhere. Besides, financial regulation attempts to enhance the efficiency of the financial system and to achieve a broad range of social objectives. Going by the experience in several countries, effective regulation is in the interests of all concerned, though it cannot be based on a 'one-size-fits-all' approach. However, it is important to bear in mind that while financial institutions do benefit from an appropriate regulatory regime, there is not much evidence that the existence of a regulatory jurisdiction makes institutions stronger and less prone to shocks. There is neither a unique theoretical model, nor just one practical approach to the regulation and supervision of a financial system. The existence of different types of regulatory models of the financial system makes the ideal choice a difficult exercise.

    9. The regulation and supervision of the financial system in India is carried out by different regulatory authorities. The Reserve Bank regulates and supervises the major part of the financial system. In the past five decades, the Indian banking system has traversed through a difficult path endeavoring to balance several competing and conflicting demands on it from large, medium, small and tiny borrowers in both the organised and unorganised sectors. The banking system's activities were initially tightly regulated and their freedom was restricted. It also confronted several domestic stresses and external shocks. However, the regulations have changed over time to ensure that the banking system steps out of the restrictive operational environment and functions in an atmosphere that provides the freedom to innovate.

    10. In recent years, innovations in instruments and processes, advances in technology and the increasing volumes of capital intermediated by the financial system have necessitated a proactive strengthening of the regulatory and supervisory framework. Emergence of several players with diversified and significant presence in the financial sector makes it imperative for supervision and regulation to be spread across various segments of the financial system. In recent years, there has been a shift in emphasis from microregulation to macro-management, supported by a tightening of prudential norms and improvements in the functioning of the financial system.

    11. Since the global crisis, there has been a decisive shift in trend towards assigning increased responsibility to the central banks for both "systemic oversight" and "macro-prudential regulation". This greater responsibility is driven by the capability of the central banks among regulators and public institutions to perform the intended task. Central banks have robust frameworks for macroeconomic analysis, and in India, the Reserve Bank has the responsibility for micro-prudential supervision of banks and non-banking financial companies. As a result, while macroeconomic analysis has helped in strengthening the microprudential supervision, supervisory information aggregated for the financial system as a whole has also helped in conducting more appropriate macroeconomic policies.

    12. The Reserve Bank has been deeply involved in the development of markets, and it monitors and analyses the impact of market trends on the economy and financial institutions. Another important reason why central banks have to be the systemic risk regulator is because of their mandate of Lender of Last Resort (LOLR). Going forward, given the complex nature of the challenge, significant strengthening of the capacity for systemic risk assessment and macro-prudential regulation would be critical for the Reserve Bank.

    Macroeconomic and Financial Sector Reforms

    13. In response to the macroeconomic crisis, a programme of stabilisation and structural adjustment was initiated in July 1991, with wide ranging reform measures encompassing the areas of trade, exchange rate management, industry, public finance and the financial sector. Fiscal correction, exchange rate adjustment, monetary targets and inflation controls constituted the immediate measures for macroeconomic stability. These measures were supported by structural reforms in the form of industrial deregulation, liberalisation of foreign direct investment, trade liberalisation, overhauling of public enterprises and financial sector reforms. Apart from aiming at restoring the economic stability on both domestic and external fronts, the economic reform programme strived towards achieving a higher growth trajectory through increased levels of investment and improvements in productivity, efficiency and competitiveness. Structural reforms aimed at reorientation of the economy from a centrally directed command and control economy to a market oriented one to foster greater efficiency and growth. This was done by introducing greater competition in the economy through progressive internal deregulation accompanied by external competition promoted by foreign direct investment and trade liberalisation.

    14. The reform measures had sectoral dimensions as well. Beginning with the industrial policy of 1991, reforms in the industrial sector were undertaken with a view to remove distortions in the resource allocation and improve competitiveness of Indian industry. The reform measures included removal of industrial licensing, reduction in the number of industries reserved for the public sector, abolition of restrictions on investment and expansion under the Monopolies and Restrictive Trade Practices (MRTP)Act, 1969, automatic approval of foreign investment, elimination of quantitative import restrictions on intermediate and capital goods and steady reduction in protective customs tariffs. These measures created a favourable environment for industry to upgrade its technology and build-up capacity in order to cater to growing domestic and external demand. A series of policy initiatives were undertaken in agricultural sector as well. These included, inter alia, replacement of quantitative controls by tariffs, partial decontrol of fertilizer prices, removal of bottlenecks in agricultural marketing, relaxation of restrictions of the Essential Commodities Act, 1955, replacement of the Revamped Public Distribution System (RPDS) with Targeted Public Distribution System (TPDS), and establishment of Rural Infrastructure Development Fund (RIDF). Moreover, price reforms improved terms of trade for agriculture. Also, exchange rate and international trade reforms improved the incentive structure facing agriculture.

    15. Several initiatives were undertaken for the development and reform of financial markets, particularly since the 1990s. The reforms in various segments of financial markets such as money, the government securities and the foreign exchange markets were introduced in a calibrated, sequenced and careful manner, in step with those in other markets in the real economy. The sequencing has also been informed by the need to develop market infrastructure, technology and capabilities of market participants and financial institutions in a consistent manner. In India, the initiation of the structural reforms in the early 1990s encompassed a process of phased and coordinated deregulation and liberalisation of financial markets. Financial markets in India, in the period before the early 1990s, were marked by administered interest rates, quantitative ceilings, statutory pre-emptions, captive market for government securities, excessive reliance on central bank financing, pegged exchange rate, and current and capital account restrictions. As a result of various reforms, the financial markets have transited to a regime characterised by market-determined interest and exchange rates, price-based instruments of monetary policy, current account convertibility, phased capital account liberalisation and an auction-based system in the government securities market. Enhancing efficiency, while at the same time avoiding instability in the system, has been the challenge for the regulators in India. This approach to development and regulation of financial markets has imparted it greater resilience. India's reform programme has had a definite positive and significant impact on the economy as compared with the past.

    Who are the Stakeholders ?

    16. In the whole process of reforms, the key stakeholders are the customers themselves. The regulators have a critical role in ensuring fair treatment to customers and it cannot be left to the market forces alone. The key to a prompt, effective and courteous customer service emanates from having the right attitude. A radical transformation of attitude right from Top Management to ground level employees is the first step towards improving customer service. Communication is at the root of effective customer care in a service industry, especially like banking, where the documents, terms and conditions, practices and precedents are all heavily loaded against the customer. In many fields and in different countries, regulators determine the price. But, the financial sector regulator in India does not do so. Therefore, whatever charges are levied, it is expected that they are reasonable and that the pricing is fair, transparent and non-discriminatory. Globally, regulators are expected to usher in much stricter regulations in the area of fair treatment to customers. Banks need to price their products and services fairly and competitively and ensure higher transparency in their products and pricing. Lack of transparency in designing and pricing of products and services and selling them to inappropriate customers could expose banks to litigation and reputational risks, besides making them liable for supervisory action. There should be no unreasonable post sale barriers if the customers wish to change product or bank. Customer education is also critical in providing appropriate and need based products and services and the Indian Banks' Association may have a critical role to play in this regard. The banking business would, thus, have to turn customer centric in all its true dimensions.

    Financial Sector Reforms – What Next?

    17. The Indian approach to financial sector reforms, so far, has been driven by the predominant objective of enhancing the role of finance in promoting growth and economic development, while preserving financial stability, which is equally critical for sustained economic progress. While balancing the goals of efficiency and stability in introducing reforms, the Reserve Bank has moved towards deregulation of interest rates, promoted development of markets, and strengthened the legal infrastructure to facilitate better enforcement of financial contracts. Going forward, three areas will continue to be important in policy debates, i.e.,development of long-term corporate bond markets, derivative markets to facilitate better price discovery and risk transfers, and more competition by allowing greater foreign participation.

    18. The regulatory and supervisory framework of the financial system across the world is undergoing a paradigm shift following the problems experienced during the global financial crisis. In this regard, multilateral and standard setting bodies like the G-20, IMF, BIS and FSB have been in the forefront to design an advanced regulatory framework to prevent the recurrence of such crisis. Addressing the regulatory gaps based on the lessons from the global financial crisis in advanced economies will be a major challenge for regulators all around the world. Much of the challenges in the domain of financial stability regulation would arise from complexities surrounding the assessment of systemic risk, interconnectedness, common exposures, risk concentrations in complex innovative products and use of models to manage and price risks which, at times, mask information.

    19. While India's financial sector remained resilient in the face of global shocks, there are a number of areas where the reforms would be needed to promote stability and generate growth impulses for the real economy. In the wake of turbulent global financial environment, banks and financial entities have to grapple with growing complexities and risks associated with their businesses. Against this backdrop, the policy initiatives such as adoption of tighter capital and liquidity standards, improved risk management practices and sound compensation practices are required to place the Indian banking system on a strong footing and enhance the banking sector's ability to absorb shocks arising from any financial and economic stress and encourage prudent risk taking.

    20. Moreover, in India, while broader institutional reforms have taken place at the macro level, the internal reforms among banks and financial institutions are yet to take place. Thus, there is a need to go for second generation reforms, particularly focusing on bringing down the cost of banking services, strengthening the credit delivery mechanism, improving customer service, reforming the human resources management systems and enhancing the financial outreach to hitherto unbanked areas.

    Second Generation Reforms

    21. Let me talk about some of the elements of these second generation reforms.

    (i) Adopting Improved Risk Management Practices

    22. One fundamental principal of finance that I would like to emphasize is the direct relationship between risk and return. Any investment that offers greater returns, invariably involves more risk. Similarly, if you avoid taking risk, then the returns could even be negative. Banks, for instance, are in the business of taking risks and hence, cannot be expected to shun risk in its entirety. Four basic requirements that banks and professionals in the field need to develop is to:

    • Understand Risk
    • Define Risk
    • Measure Risk
    • Manage Risk

    My advice to all students entering the finance field would be that never take a risk where you cannot meet the above four requirements.

    23. Globally, there is an increasing move towards more advanced approaches to risk management. Banks in India have made progress in moving towards the advanced risk management approaches. Banks, however, need to traverse a long distance in this regard. As capital always comes at a cost, banks need to have in place a fair and differentiated risk pricing of products and services. This involves costing, quantitative assessment of revenue streams from each product and service and an efficient Transfer Pricing Mechanism, which would determine capital allocation. Each business unit in the enterprise would have to aim at being a profit centre within the overall risk–return framework. In essence, it would mean accountability for profit, tempered by the discipline of risk–return within a deeply embedded culture of good governance. Our past experience has been of poor savers subsidising the rich borrowers. Also, there are incidences of rampant mis-pricing of risks. From a business perspective, pricing of assets should be non-discriminatory and in line with risk rating of the customer. A lower rated customer should not get a better price than a higher rated customer. Once these basic issues are addressed, other issues such as migration to advanced approaches, etc. would gain importance.

    24. While all Indian banks have adopted the standardised approaches under the Basel II framework in 2009, the pace of migration to the advanced approaches has, naturally, been very slow. Though the Reserve Bank has set an indicative time schedule for implementation of the Advanced Approaches, banks' response has been less than encouraging so far. Migration to the Advanced Approaches is important for larger banks as it involves adoption of more sophisticated risk management systems. Moreover, there are reputational issues also in large banks continuing with standardised approaches. Apart from these fundamental issues, much of this sluggishness could be attributed to issues relating to development of human resource skills, technology upgradation, branch interconnectivity, availability and management of historical data, robustness of risk management systems,etc. within the banks. Even within the Reserve Bank, the supervisors would have to make rapid strides to be able to appreciate the nuances associated with the quantitative techniques and models.

    25. The objective of the Basle III reform package is to improve the banking sector's ability to absorb shocks arising from financial and economic stress, whatever the source, thus reducing the risk of spillover from the financial sector to the real economy. An assessment of Indian banks' capital requirements under Basel III has revealed that, notwithstanding some issues with a few individual banks, the system as a whole, is very well capitalised and the transition to the revised capital norms of overall capital adequacy, Tier I component or equity component would be smooth. The implementation period of Basel III capital requirements, including capital conservation buffer and regulatory deductions, will begin from January 1, 2013 and will be fully implemented by March 31, 2018, before the timeline (January 1, 2019) indicated in Basel III rules.

    (ii) Reforming Human Resources Management

    26. There is an imperative need to improve the productivity and efficiency of human resources. An organisation can only be as good as its people. They are the force behind innovation, business process re-engineering and making the difference between success and failure. A committed and highly motivated work force can make the difference in winning and retaining customers as banking is a people oriented business. Banks have to be knowledge organisations, able to attract and retain talent. HR policies should look at right size, right fit and career growth with market related compensation. Increasingly, there is going to be intense competition for the right kind of talent as they are likely to be in short supply. The demand for efficient manpower will not only stem from domestic institutions but also from foreign institutions/ countries; and not just from the banking industry but from other financial/ non-financial sectors. The challenge before Indian banks is, therefore, to revitalise themselves by hiring the right talent, investing in training and bringing about a vibrant transformation in their DNA.

    (iii) Technology to be More Customer Focused

    27. Most banks are already on Core Banking Systems (CBS) which covers banking operations pertaining to deposits, withdrawals, credit delivery, back-office operations, etc. Banks need to look beyond Core Banking to harness the benefits of technology. CBS could provide inputs for developing customised products based on customer database. It would help in planning product delivery and service at selected/ multiple delivery points, better Customer Relationship Management and building lasting customer relationships which will translate into higher revenues. Technology needs to be more customer focused than employee or vendor focused. In case of glitches, the rectification must be swift to instill faith and confidence in the system. It is only the more agile and innovative players who will stay ahead in the game. Along with IT solutions arise allied issues such as IT security, governance and audits. Gaps in IT security could make banks vulnerable to data piracy, fraud and operational risk leading to reputation risk and erosion of customer confidence.

    (iv) Focusing on MIS and Information Literacy

    28. MIS is an inseparable part of bank's decision making process. The integrity and timeliness of data is critical in formulating the bank's capital planning, business strategies, reviewing achievements vis-a-vis targets, formulating course correction exercises where required, feeding data into stress tests and importantly, taking action on the outcomes. This brings us to technology support for decision making. Banks have made huge investments in technology, which should be translated into better MIS through decision support systems and yield returns on investment by providing economical, affordable and customised customer centric banking solutions. The use of technology should not be seen as an end in itself but as a means to an end.

    (v) Business Strategy and Vision

    29. The role of banks' Boards would become increasingly crucial in the next decade in view of the looming competition. The Board would need to have a clear vision for the bank, a strategy to achieve its objectives, both medium and long-term, and a well laid out long-term plan. Banks would need to look beyond their existing customer base and large corporates and reach out to rope in the vast number of small, retail and SME clients which are presently deprived of bank credit. Alongside extending the reach of their banking services, there would be a need to improve the products offered to customers and the quality of services. They need to have proper business model and delivery model.

    (vi) Reaching to the Unbanked/ Under-banked Areas

    30. In India, growth with equity has been the central objective right from the inception of the planning process. The objective of financial inclusion is to provide financial services at affordable cost to those who are excluded from the formal financial system. This is vital for sustaining long term equitable development, since a large proportion of the households/areas do not have access to basic banking facilities, notwithstanding the existence of vast institutional framework in the country. An important challenge is to channelise more savings to the financial system, particularly in rural areas and from the urban informal sector. This would need further penetration of the banking system. The Reserve Bank's emphasis on financial inclusion is important in attaining this objective over time. There is also enormous potential for extending finance in semi-urban and rural areas for productive activities, which may require strengthening the banking correspondent relationship, simultaneously enhancing the risk assessment and risk management capacities in order to maintain credit quality and sustain the credit growth in these sectors. Besides benefiting the unbanked masses, this will also ensure viability and scalability of banks' financial inclusion initiatives.

    (vii) Bringing Down the Cost of Banking Services

    31. Further reduction in the cost of banking services may require greater competition among product lines, improved delivery mechanisms and increasing use of information technology. The costs of banking transactions need to be dramatically reduced as has happened in many other fields such as telecom, after the advent of technology. However, it is observed that, in banking, the transaction costs continue to be high, particularly in agriculture sector, which include costs incurred in appraisal of borrowers, processing, documentation and disbursement charges, loan monitoring/supervision and collection. It is essential to bring down such transaction costs to make available credit at affordable price to the farmers.

    Balancing the Real and Financial Sector Reforms

    32. Financial sector reforms alone will not bring continued prosperity. In the recent years, we see, growing evidence on growth deceleration in the Indian economy. For sustaining the high growth path, improving the investment climate and enhancing the absorptive capacity by bringing in the real sector reforms would be critical. The fact that a well-developed financial sector is necessary to act as the intermediary between entrepreneurs/ investors and savers can hardly be overstated. An efficient financial sector reduces the cost and risk of producing and trading goods and services and, thus, makes an important contribution to raising standards of living. The recent crisis, however, showed that the financial sector had apparently taken a quasi-autonomous existence without close connection with the financing requirements of the real economy. The financial industry, indeed, grew oversized in the preceding years, reflected in rapid credit creation, asset price bubbles and high levels of indebtedness, particularly in advanced financial systems. The disproportionate growth in the global financial sector was largely due to the aggressive search for yield, engendered by the easy liquidity in the global system that triggered a wave of financial innovation. Complex financial products were created by structuring and hedging, originating and distributing, all under the belief that real value could be created by sheer financial engineering. There were hardly any signs of growing capital formation due to the growing and increasingly complex financial sector.

    33. The financial sector grew more rapidly than other goods and services. In a way, that made growth of finance an end in itself and not a means to meet human needs such as food, fuel, health and education. Given that the busting of the oversized financial sector has a devastating impact on the real sector, it becomes important to (i) examine the optimal size of the financial sector relative to growth and development needs and (ii) make financial sector innovations more meaningful to cater to the needs of the real sector.

    34. For sustaining the high growth path, it is imperative that we bring in reforms in the agriculture, industry, infrastructure and services sectors. I would like touch upon some of the elements of these reforms.

    Improving Agricultural Governance and Productivity

    35. In order to step up agriculture growth, a judicious use of technology is required along with institutional reforms, including those relating to land, incentives for supply response and better input use. Given the dependence of a vast majority of workforce on agriculture, enhancing the agricultural output, driven by higher yield and diversification of crops, assumes importance. Higher investment, backed by sustained research and extension activities, could be critical for augmenting yield. The policy focus, so far, has been on using higher MSP to generate supply response and public investment on expanding the irrigation potential. However, there is a need for improving the market structure for agricultural commodities, ensuring competitive pricing, enhancing warehouse facilities and improving rural roads for enhancing better connectivity with urban markets. Better water management, with an emphasis on water harvesting, would be important for enhancing the farm productivity and output.

    Improving the Performance of Manufacturing Sector

    36. The manufacturing sector's performance in a competitive environment and in the face of risks of rising protectionism could encounter several challenges. Despite the advantages of a large domestic market, abundant availability of skilled labour force, and the proximity to the fast growing Asian markets, productivity growth needs to catch up with the Asian economies, including China. This requires greater emphasis on quality, better adoption of technology, more flexible labour laws, significantly improved infrastructure and a policy environment supportive of the SMEs sector. The industry-education linkages must be strengthened vigorously. Persistent problems like frequent disruptions in the availability of power and lack of stable demand also affect the performance of the manufacturing sector.

    Harnessing the Potential of Services Sector

    37. Notwithstanding the high growth and resilience of the services sector in the recent past, the sector faces multiple challenges for sustained growth over the years. A number of services, where India enjoys comparative advantage, experience lack of clear policy thrust. For instance, despite the high quality of healthcare services, it attracts a number of regulations. Similarly, in education, multiple regulation points and lack of credible accreditation systems hamper the growth potential. Given the medium to long-term contribution of investments on education and health to growth and productivity, availability of these services at affordable cost, while enhancing their global competitiveness, must form part of the priority in India's development process. A number of services in India are either predominantly associated with the Government or not liberalised enough to ensure growth through organised private initiatives. Services like professional, legal, postal, accountancy and insurance need further liberalisation to harness their potential.

    Facilitating Infrastructure Finance

    38. As per the assessment of the Planning Commission, during the Twelfth Plan (2012-17) India may need infrastructure investments of over US$ 1trillion. This poses a mammoth financing task. The infrastructure gap in India, both in relation to other major countries and its own growing demand, has been a key factor affecting the overall productivity of investments. The requirement of high initial capital outlay, that too over longer terms, necessitates measures to address the financing constraint to capacity expansion in infrastructure. The financing issue relates not only to possible resource gap, but also to ensure commercially viable funding that remains so over business cycles. Infrastructure investment during the Twelfth Plan will need to be funded by both, public and private sectors. Despite increasing participation of the private sector in bridging the infrastructure gap, public investment still has to play a significant role. Fiscal consolidation and reorientation of expenditure towards capital expenditure is required to meet the target. The banking system, despite the risk of asset-liability mismatch while lending for long-term infrastructure projects, has seen high growth in credit to this sector in recent years.

    To sum up

    39. The first round of financial sector reforms resulted in strengthening of the financial system and making it more vibrant and resilient. However, over time, the pace of reforms and growth has slowed down and the need for second generation of reforms is strongly felt. These reforms would have to focus on individuals and corporates and work towards improvement in productivity and efficiency of the economy as a whole.

    40. Financial sector reforms, in isolation, will not have a significant impact unless there is improvement in the absorption capacity of the economy. Real sector reforms should precede financial sector reforms for bringing in inclusive and sustainable development of the country. Even in the financial sector, there is an imperative need for internal institutional reforms, particularly focusing on improving the risk management practices, reducing the cost of transactions, both borrowing and lending, and improving the overall customer service. I hope all concerned stakeholders work towards implementation of these second generation reforms, which is essential for moving the economy back to the high growth trajectory.

    41. I would, once again, like to congratulate the Vivekananda Education Society for completion of 50 glorious years and hope that the Society continues its efforts to produce students who are fully equipped to shoulder the responsibility of taking the nation forward in the coming years. I would also urge the management, faculty and students to rededicate themselves towards further broadening the activities and reach of the Society so that it provides an avenue for the deprived segments to attain social and economic prosperity through education. This would be in line with the message that Swami Vivekananda sought to spread, all through his life, through his work and writings.

    I wish the deliberations of the Seminar all success. Thank you.


    1 Address by Dr. K. C. Chakrabarty, Deputy Governor, Reserve Bank of India at the Inaugural Session of the State level seminar organized by the Department of Economics of the Viveananda Education Society's College of Arts, Science and Commerce, Mumbai on September 14, 2012. The assistance provided by Smt. Rekha Misra and Shri S.M. Lokare in preparation of this address is gratefully acknowledged.

    http://www.rbi.org.in/scripts/bs_speechesview.aspx?id=733


    1. 2nd Generation Reforms - Term Papers - Pyush09

      India was a latecomer to economic reforms, embarking on the process in ... 2011, from http://www.studymode.com/essays/2Nd-Generation-Reforms-742664.html ...
    2. Economic reforms of india

      ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০১২ – Economic reforms of india Presentation Transcript. Two stages of Economic Reforms;  The "SECOND GENERATIONreforms are aimed at ...
    3. BBC News - Challenges ahead for India reforms

      ২৭ জুলাই, ২০১১ – When will the critical second generation of reforms happen? Will it happen sporadically, almost by stealth? Or will it happen when India faces ...
    4. Beautification of Indian Economy: A Race for Second Generation ...

      ১৩ অক্টোবর, ২০১২ – Mishra, Sisira Kanti, Beautification of Indian Economy: A Race forSecond Generation Reforms (October 12, 2012). Available at SSRN: ...
    5. 2nd Generation Reforms in India - College Essays - Ankurbt

      ৯ ডিসেম্বর, ২০১২ – 2Nd Generation Reforms: Economic Reforms in India since 1991India was a latecomer to economic reforms, embarking on the process in ...
    6. India Together: Second generation reforms: delivery - July 2004

      www.indiatogether.org/2004/jul/opi-reforms.htm
      Second generation reforms: delivery. Shouldn't "fixing the delivery system" itself be one of the central planks of second-generation reforms, asks Ramesh ...
    7. India needs second generation reforms: Percy Mistry - Economic ...

      ২৬ আগস্ট, ২০০৮ – HYDERABAD: There is a need for second generation reforms in India for spreading the benefits of market functioning throughout its economy ...
    8. 2nd Generation Economic Reforms in India - পৃষ্ঠা6 - Google বই ফলাফল

      Ruddar Datt - 2001 - India
      The next 10 years will be India's decade of development."2 The use of the term 'Second Generation Reforms' may be considered appropriate in the sense in ...
    9. Economic Reforms in India - Google Books

      APH Publishing, 2003 - India - 438 pages ... India After Gandhi: The History of the World's Largest Democracy ... Second Generation Economic Reforms. 333 ...
    10. Economic reforms in India: from first to second generation and ...

      This Book On The First To Second Generation Economic Reforms And Beyond, Will Be Of Great Use To Economists And Industrialists, Managers And ...

      Volume 19 - Issue 02, Jan. 19 - Feb. 01, 2002
      India's National Magazine
      from the publishers of THE HINDU


      Table of Contents

      REFORMS

      Assessing India's economic reforms

      India needs to launch a second generation of reforms after undertaking an in-depth analysis of what has gone wrong until now during the course of the ongoing round of reforms.

      SUBRAMANIAN SWAMY

      THE two decades since 1980-81 have been easily the best in India's economic performance in the last century.

      After averaging about 3.6 per cent a year in GDP (gross domestic product) growth rate during the 30 years between 1950-51 and 1980-81 and less than 1 per cent a year in the half century before that, GDP growth accelerated to 5.6 per cent in the 1980s (5.3 if 1991-92 is included) and averaged even higher at 6 per cent in the final decade up to 2000-01. Indeed, if the crisis-affected year of 1991-92 is omitted, GDP growth in the past nine years (1992-93 to 2000-01) averaged an unprecedented 6.3 per cent (Table 1). And between 1992-93 and 1995-96, the growth rate averaged even higher at over 7 per cent a year.

      This vindicates the stand of this author since 1971 that economic liberalisation, de-regulation, and market principles were essential for raising the growth rate in the economy that required eschewing the then current command economy ideology copied from the USSR, and which failed there too. In his 1971 book Indian Economic Planning, an Alternative Approach (Vikas, New Delhi), this author had predicted that such a transformation in policy toward market economy would raise the growth rate to 10 per cent a year, but alas had then found little acceptance because of Indian economists: that India was bound by the "Hindu rate of growth" of 3.5 per cent a year.

      The past trend in decadal growth rates looks increasingly better, partly because of the declining population growth rate over the years. When we look at per capita GDP growth, we find that it has accelerated from 0.8 per cent in the 1970s to 4.6 per cent in the last nine years. Furthermore, while the growth performance in the 1980s was bedevilled by unsustainable fiscal deficits and increasing drain in external reserves, which led to the balance of payments crisis of 1990-1991, in the last nine years, the external sector has been manageable despite the fiscal imbalances deteriorating.

      What is significant is that in an international perspective India's growth performance of the last two decades ranked amongst the top six in the world growth league, along with China, Korea, Thailand, Singapore and Vietnam. Moreover, since the 1997 East Asia meltdown, India's rank is now second only to China in growth rates. In PPP (purchasing power parity) terms, the 1990s growth has also put India among the top four in the world. In fact, on corrected data, the growth rates of China and India in the 1990s have been about equal [see the author's Economic Growth in China and India (1980-99) presented at the Fairbank Centre's New England China Seminar, Harvard University, October 15, 2001], and unless the present dispensation in power makes an even bigger mess than it managed to do since 1998, the Indian growth rate can exceed China's during the first two decades of the 21st century.

      Much of this growth has been due to macroeconomic policy changes since 1991, but also due in part to fortuitous international circumstances and to the global environment. While P.V. Narasimha Rao as Prime Minister deserves credit for implementing the first generation reforms, he obviously could not have done so soon after taking office (within 10 days) unless the blueprints were ready. These had been, in fact, prepared under my supervision as Minister by the previous government headed by Chandra Shekhar. I had also held a Cabinet rank position in Narasimha Rao's government as Chairman of a Commission on issues relating to the General Agreement on Tariffs and Trade. Sadly, it is now quite clear, however, that reforms in India have run out of steam (Table 2).

      What is more alarming is that since the departure of Narasimha Rao, and since 1996-97, even the relatively high growth rates are not sourced to agricultural and industrial growth but to the services sector.

      If we subdivide the nine years following the 1991 crisis into an initial period of five years (corresponding to the Eighth Plan) and the subsequent four years up to 2000-01, the following points are worth nothing: First, the acceleration of GDP growth to -6.7 per cent from the pre-crisis decadal (1980-89) average of 5.6 per cent is remarkable and attributable to reforms. Second, it is noteworthy that in the post-crisis quinquennium, all the major sectors (agriculture, industry, services) grew at a noticeably faster pace than in the pre-crisis decade.

      Third, the average growth performance in the four most recent years is, in sharp contrast, disappointing (Table 3). Overall GDP growth drops to 5.8 per cent. Of much more concern is the collapse of agricultural growth to 1.4 per cent and the significant fall in industrial growth to 4.9 per cent. In 2000-01, the rate only dropped to 2.1 per cent. Indeed, the drop in GDP growth in these four years would have been much steeper but for the extraordinary buoyancy of services, which averaged a growth of 8.8 per cent. This growth in services was much faster than in the case of industry, a pattern which raises questions of sustainability. No economy can continue to grow this way for long.

      The importance of services in India's economic growth is brought out in Table 4. For the full nine years (1991-92 to 2000-01), the growth-contributing role of services was nearly 60 per cent. This proportion rose to 70 per cent in the last four years.

      A part of the services sector growth in the last four years was, furthermore, bogus in the sense that it simply reflected the revaluation of the value-added in the subsector "Public Administration and Defence" because of higher pay scales resulting from decisions based on the Fifth Pay Commission Report. This may be called the "Chidambaram hoax". National income accounting practice requires that value added in non-marketed services be estimated on the basis of "cost" and in current prices. These Pay Commission effects, including in States, were spread mainly over three financial years 1997-98, 1998-99, 1999-2000, when growth of "Public Administration and Defence" soared to 14.5 per cent, 10.3 per cent and 13.2 per cent, respectively, compared with an average growth in the previous five years of less than 4 per cent.

      Thus, the nation needs to launch on a second generation of reforms after an in-depth analysis as to where we have gone wrong.

      THERE are four major areas of the Indian economy summarised below, which require urgent attention.

      Fiscal deficit

      There has not been too much progress in cutting the fiscal deficit. Whatever little the Central government has managed up to 1999 has been cancelled out by the deteriorating fiscal position of the State governments. Since 1999, even the Centre has failed to curb fiscal deficit. The combined fiscal deficit is now near 10 per cent of GDP. High fiscal deficit crowds out private investment and banks' capacity to lend, since the government corners the lion's share of the bank's funds. Fiscal measures to encourage domestic saving and foreign direct investment (FDI) are essential now.

      Poverty

      There is no consensus yet on the key question: have the reforms helped the poor? The data put out by the National Sample Survey Organisation suggests that poverty rates have remained static, but National Council for Applied Economic Research (NCAER) data show that poverty rates have fallen. But since the rent-losers from economic reforms are entrenched and organised, and the gainers are not, the legitimacy of reforms is being eroded every day. This needs to be set right.

      Growth distribution

      Growth has been unevenly distributed, especially in terms of regions. Some dynamic States like Maharashtra are sprinting ahead, while the likes of Bihar have stagnated. This could put pressure on the federal system, since the bulk of the poor and rapidly growing population lives in the already populous northern States. The North-South divide (as it is seen globally) is reversed in India, and could upset the polity in the future.

      Growth impulses

      The economy's growth impulses are getting weaker, while domestic industry, with exceptions like TVS, is caving in to foreign companies in hostile take-overs. While the government still talks about pushing GDP growth rate to 8 per cent, the harsh reality is that India seems stuck in the 5-6 per cent range during the last four years. Talk cannot be a substitute for action.

      While growth is the ultimate target of macroeconomic policy, low fiscal deficit, high savings, and investment are intermediate targets. Controlled inflation, increasing employment, and decreasing poverty are immediate targets of macroeconomic policy. Macroeconomic policy needs to be designed keeping all three types of targets in mind.

      If growth is the key measure of macroeconomic performance, inflation (or rather its absence) is the generally preferred indicator of macroeconomic stability. In the 1980s, India's average inflation rate of 7.2 per cent was close to the average rate for Asian developing countries as a group (7.1 per cent), a little above the average rate for the developed countries (5.6 per cent) and much lower than the average for all developing countries (39 per cent), which was driven high by Latin American inflation (145.4 per cent). In the 1990s the conspicuous difference was that inflation in developed countries dropped to a low 2.6 per cent, or one-third the average rate for India. And in the last three years, inflation in the Latin American countries came down to single-digit figures.

      Thus inflation was contained worldwide, and India was a beneficiary. It is therefore not merely because of India's macroeconomic policy that inflation was contained, but because of the global environment of price stability.

      In the next wave of reforms, what is going to be crucial is the launching of what India's representative at the International Monetary Fund (IMF), Vijay Kelkar, calls meso-economic reforms, otherwise known as second generation reforms: that is, major infrastructure sector reforms in energy, irrigation works, transportation, telecommunications, universities and other higher institutions of learning and housing construction. In a growing economy, these sectors will require enormous amounts of new investment. That is easier said than done in India, because no country in the world has achieved a sustained growth rate or high rate of investment with such high interest rates as in India (of 6-8 per cent in real terms). Bringing the real interest rates in the neighbourhood of 3-4 per cent is therefore essential. It can trigger a spectacular investment boom throughout the economy.

      Such a reduction in the long-term interest rates will also be essential to maintain an exchange rate regime that is supportive of trade liberalisation, that is, avoid the over-valuation of the rupee. Thus, the reduced interest rate and competitive exchange rate can become the "Archimedean" lever to propel the economy on the high growth path.

      Currently, by and large all infrastructural sectors are in the public sector and in some cases they are monopolies. If in these sectors we introduce both privatisation of public sector enterprises and the entry of the private sector, the gains to the economy are likely to be quite spectacular. In the Indian economy the benefits of these meso-economic reforms could add 3-4 per cent of GDP per annum, which can accrue with little capital, and provide the springboard for further gains, particularly by inspiring new private investment and productivity growth. In this list of meso-economic reforms, emphasis needs to be laid on reforms in higher education, that is colleges and universities, to dismantle, for example, the severe entry barriers to start a private university in India, to permit collaboration or alliance of Indian educational institutions to be outsourced for academic research and even teachers by cost-strapped academic institutions of the U.S. and other developed countries.

      A major implication thus of these meso-economic reforms is a need to create a new institutional and financial architecture for the management of the Indian economy to sustain a full-fledged modern market economy, where stability, predictability and transparency of policies are seen to be of fundamental importance by foreign investors.

      The new institutional architecture will also imply the strengthening of independent regulatory agencies such as the Securities and Exchange Board of India (SEBI), the Telecom Regulatory Authority of India (TRAI) and the Central Electricity Regulatory Commission (CERC), and to their independence being treated on a par with the independent judiciary. Such a new institutional architecture will have an independent monetary authority. This will be achieved by giving greater independence to the Reserve Bank of India on the lines of the autonomy enjoyed by the Federal Reserve in the U.S. and the Bank of England. This will inspire confidence amongst both investors and consumers and promote competition in these sectors since it would end the crony capitalism that plagues India and inundates the economy with mega scandals involving insider trading and plain fraud.

      In the reforms initiated in 1991, the emphasis was on reforms of product markets by abolishing industrial licensing and import barriers. These reforms, however, left the factor markets such as labour markets, land markets and capital markets, the natural resources market such as water, and institutions mostly untouched.

      However, now, among the necessary factor market reforms, two are crucial: reforms, first, of the labour markets, and second, of the financial sector. India's present laws of bankruptcy (exit policy) and corporate control require reforms so that the market for corporate control becomes competitive. The financial sector reforms would involve reforms of the banking sector, equity markets, debt markets and foreign exchange markets. In this, privatisation of state-owned banks is perhaps the most essential, but preceded by strengthening of the regulation and supervision of financial institutions and of capital markets, which are really non-existent at present. The recent developments in the Indian stock market vividly show how the actions of one private bank, one cooperative bank, one major stock exchange management, and a giant mutual fund of 20 million subscribers can have a deleterious impact on national equity markets and particularly on small shareholders, because of a lack of strong supervision.

      But the most deleterious effects are from rogue empires, which no government wants to regulate, and whose suffocating tintacks are everywhere choking off competition. Thus the downside risks of globalisation get amplified if the financial sector is weak and more so as the economy liberalises and integrates with the world economy. This is the main lesson of the 1997 Asian crisis and the recent crisis in Turkey, and the 2001 meltdown in Argentina.

      THE question that remains is: where can the funds to finance these reforms come from? Three sources seem feasible in the Indian context: a rise in domestic savings prodded by attractive tax policies; a sharp increase in FDI by means of appealing reforms in regulations and labour laws; tapping the liquidity in the banking sector.

      The first phase of reforms, which started in 1991, essentially concentrated on reforms at the Central government level. Now these have to be taken to the level of the States and district local bodies. Almost 40 per cent of our revenue and fiscal deficit are because of poor State finances. A number of reforms are required to improve the delivery system, too, since all social services such as education, health, and so on are delivered at the State level. The State-level reforms are of particular importance to promote regional equity, which is a matter of fundamental significance for a federal polity like India.

      K. RAMESH BABU
      P.V. Narasimha Rao, who was Prime Minister from 1991 to 1996, deserves credit for implementing the first generation reforms, but the blueprints were ready already.

      These reforms should be designed also to have India playing its rightful role in the world so as to provide growth and stability to the global economy, an aspiration China is meticulously working to fulfil. In the age of globalisation, this means not just achieving a high growth rate of the gross national product, but more on what India can contribute to the global pool of knowledge and technological progress. While India's potential in this area stands demonstrated, the nation with the world's third largest scientific manpower has a long way to go to become a world player in information technology (IT).

      For instance, if patents are taken as one of the quantitative indicators of innovation or growth of knowledge, in the year 1999, the most recent year for which data are available, the number of patents India obtained in U.S. was only 114 compared with Taiwan or South Korea, which got as many as 4,000. For the developed countries such as the U.S., Germany or Japan, the numbers are much higher. Even in the case of domestic patents, there were 1,660 in India, 12,000 or so in China and 3,00,000 in Japan.

      As we have seen in earlier sections here, in the growth of "total factor productivity", an index of technological progress, India's performance has been lower than in countries such as China, Japan, Korea or the U.S. Even the research and development (R&D) expenditure that India devotes as a percentage of GDP is far lower than that of Japan, Korea and other developed countries. When it comes to education, whether in terms of literacy or the amount of support to the universities, India's performance, vis-a-vis other high-performing developing countries such as China and Korea, is woefully inadequate. In other words, this "knowledge or innovation deficit" is a big problem, which India will have to overcome in order to compete successfully in the emerging knowledge-based world economy and become a source of technological progress for the world. Once again, media-projected bald prognostications of a Prime Minister or Finance Minister cannot be a substitute for urgent action on a well-designed strategy.

      A. ROY CHOWDHURY
      Daily-wage labourers outside Hi-Tech City in Hyderabad. There is no consensus yet on the key question: have reforms helped the poor?

      As India faces the new century, the Indian economy stands at a crossroads. Either it can take the "business as usual" road, which also means continued poverty and a low growth trap, or take the high road to achieve prosperity, global prominence and a more egalitarian society through accelerated reforms and by energising the national innovation system. This means that government's national orientation has to shift from religious fundamentalism, re-writing history and terrorising minorities to achieving economic goals, and concomitantly the voter has to rise, or be encouraged by the intellingentsia to rise, above caste, religion and inducements to vote for performance. The task is achievable, but not by wishful thinking and armchair pontification of intellectuals.

      Experience and economic theory tell us that the impact of such micro-meso-macro economic reforms can be multiplicative, exploiting their synergy. Hence, I am quite confident that with these reforms the Indian economy can grow at the rate of 10 per cent per annum over the next two decades or so. This would make India's economy by the year 2020 the world's third largest, after the U.S. and China, perhaps even bracketed second, overtaking all the major European economies such as Germany, France and the U.K.

      Dr. Subramanian Swamy, a former Union Minister for Commerce, is currently a member of the faculty in the Department of Economics, Harvard University (2000-02).

      http://www.frontlineonnet.com/fl1902/19020610.htm


ভারতের কৃষি

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
ভারতের কৃষক
ভারতের প্রধান কৃষি অঞ্চল: P ডালSআখJ পাটCn নারকেলC তুলা, ও T চা.
ভারতের কৃষক, দুর্গাপূজার মণ্ডপচিত্র, কলকাতা, ২০১০

ভারতে কৃষির ইতিহাস সুপ্রাচীন। প্রায় দশ হাজার বছর আগে এই ভূখণ্ডে কৃষিকাজের সূচনা হয়।

বর্তমানে ভারত কৃষি উৎপাদনে বিশ্বে দ্বিতীয় স্থানের অধিকারী। ২০০৭ সালের হিসেব অনুযায়ী, দেশের জিডিপি-তে কৃষি এবং বনবিদ্যাকাষ্ঠশিল্প ইত্যাদি কৃষি-সহায়ক ক্ষেত্রগুলির অবদান ১৬.৬ শতাংশ। ভারতের মোট শ্রমশক্তির ৫২ শতাংশই এই ক্ষেত্রে নিযুক্ত।[১] জিডিপি-তে কৃষিক্ষেত্রের অবদান বর্তমানে অনেকটা কমলেও, এই ক্ষেত্র আজও ভারতের বৃহত্তম অর্থনৈতিক ক্ষেত্র এবং দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানের অধিকারী।

দুগ্ধকাজুবাদামনারকেলচাআদাহরিদ্রা ও কালো মরিচ উৎপাদনে ভারতের স্থান বিশ্বে প্রথম।[২]কফি উৎপাদনে ভারতের স্থান বিশ্বে ষষ্ঠ।[৩] গবাদি পশুর সংখ্যার হিসেবেও ভারতের স্থান বিশ্বে প্রথম (২৮১,০০০,০০০)।[৪] গমধানআখচিনাবাদাম ও অন্তর্দেশীয় মৎস্য উৎপাদনে ভারতের স্থান বিশ্বে দ্বিতীয়।[৫] তামাক উৎপাদনে ভারতের স্থান বিশ্বে তৃতীয়।[৫] বিশ্বের মোট উৎপাদিত ফলের ১০ শতাংশ ভারতে উৎপাদিত হয়। কলা ও সাপোটা উৎপাদনে ভারতের স্থান বিশ্বে প্রথম।[৫]

ভারতে ধান ও গম উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধির তুলনায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি।[৬]

পরিচ্ছেদসমূহ

  [আড়ালে রাখো

[সম্পাদনা]ইতিহাস

মূল নিবন্ধ: ভারতের কৃষিব্যবস্থার ইতিহাস

আনুমানিক ৯০০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ নাগাদ ভারত ভূখণ্ডে কৃষিব্যবস্থার সূচনা ঘটে। প্রাগৈতিহাসিক যুগের বৃক্ষরোপণ এবং শস্য উৎপাদন ও পশুপালন ছিল এই ব্যবস্থার মূল উৎস।[৭] উন্নততর প্রযুক্তির মাধ্যমে ধীরে ধীরে কৃষিকাজের উন্নতি ঘটতে থাকলে এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা সুস্থিত হয়।[৮][৯] বছরে দুইবার বর্ষাকাল হওয়ার দরুন সেই যুগে বছরে দুইবার চাষ আবাদ করা হত।[১০] তৎকালীন বাণিজ্যপথের মাধ্যমে ভারতে উৎপাদিত দ্রব্যাদি পৌঁছে যেত বিশ্বের বাজারে এবং ভারতীয়রাও বিদেশী পণ্যের সঙ্গে পরিচিত হত।[১০][১১] ভারতীয়দের জীবনযাত্রা শস্য ও পশুদের উপর এতটাই নির্ভরশীল ছিল যে তারা এগুলিকে পূজা করত।[১২]

মধ্যযুগে খাল নির্মাণ প্রযুক্তি বিশেষ উন্নতি লাভ করায় কৃষিব্যবস্থাও বিশেষ উন্নত হয়।[১৩][১৪]সামঞ্জস্যপূর্ণ শস্য উৎপাদনের লক্ষ্যে ভূমি ও জল সরবরাহ ব্যবস্থার বিশেষ উন্নতি ঘটানো হয়।[১৫][১৬]আধুনিক কালে ভারত কৃষিতে কিছুটা পিছিয়ে পড়লেও, স্বাধীনতার পর ভারতীয় প্রজাতন্ত্রে একটি সুসংহত কৃষি কর্মসূচি গৃহীত হয় এবং তার ফলে কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নতি ঘটে।[১৭][১৮]

[সম্পাদনা]উদ্যোগ

কৃষিবিপণন, মজুত ও হিমঘর পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য ব্যাপক বিনিয়োগের প্রয়োজন। সরকার একাধিক স্কিমের মাধ্যমে এই বিনিয়োগের অর্থ তোলার জন্য উদ্যোগ নিলেও তা সফল হয়নি।[১৯]

১৯০৫ সালে ভারতীয় কৃষি গবেষণা সংস্থা (আইএআরআই) স্থাপিত হয়। এই সংস্থায় ১৯৭০-এর দশকে ভারতীয় সবুজ বিপ্লবের জন্য দায়ী। ভারতীয় কৃষি অনুসন্ধান পরিষদ (আইসিএআর) দেশের কৃষি ও গবেষণা ও শিক্ষা সহ কৃষি-সহায়ক ক্ষেত্রগুলির সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।[২০] কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী আইসিএআর-এর সভাপতি। ভারতীয় কৃষি পরিসংখ্যান গবেষণা সংস্থা কৃষিক্ষেত্রে নানান প্রযুক্তিগত পরীক্ষনিরীক্ষা চালায়, কৃষি পরিসংখ্যান প্রস্তুত করে এবং পশুপালন ও বাগিচানির্মানের পরিসংখ্যানও প্রস্তুত করে। কৃষি ঋণ নিয়ন্ত্রিত হয় জাতীয় কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন ব্যাংক বা নাবার্ডের মাধ্যমে। নাবার্ড দেশের গ্রামোন্নয়নের সর্বোচ্চ বিধিবদ্ধ সংস্থা।

সাম্প্রতিক কালে ভারত সরকার কৃষি কর্মসূচির উন্নতি ঘটাতে কৃষক কমিশন স্থাপন করেছেন।[২১] এই কমিশনের প্রস্তাবগুলি নিয়ে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে।

[সম্পাদনা]সমস্যা

ভারতের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ জীবনধারণের জন্য গ্রামীণ কর্মনিয়োগের উপর নির্ভরশীল। এমতাবস্থায় ধীর কৃষি অগ্রগতি দেশের নীতিনির্ধারকদের একটি দুশ্চিন্তার কারণ। চাষাবাদের অধুনা প্রচলিত প্রথাগুলি আর্থিক বা পরিবেশগত কোনো দিক থেকেই স্থিতিশীল নয়। এবং অনেক ফসলের ক্ষেত্রেই ভারতের উৎপাদন কম। অবহেলিত সেচব্যবস্থা ও সম্প্রসারণ ব্যবস্থার বিশ্বজনীন অভাব এই দুরবস্থার অন্যতম কারণ। খারাপ সড়ক, মৌলিক বাজার পরিকাঠামো ও অতিরিক্ত শুল্কের ফলে কৃষকরা বাজারে ঠিকমতো শস্য বিক্রি করতে পারেন না।
—বিশ্বব্যাঙ্ক: "ইন্ডিয়া কান্ট্রি ওভারভিউ ২০০৮"[২২]
উর্বর গাঙ্গেয় বদ্বীপ—ভয়াল বন্যা ও ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের জন্য প্রসিদ্ধ—এখানে প্রচুর পরিমানে পাট, চা ও ধান উৎপাদিত হয়। এখানে মাছের উৎপাদন ও রফতানি দুইই চলে।

ভারতের কৃষিক্ষেত্রে কম উৎপাদন জনিত সমস্যাটির মূল কারণ নিম্নরূপ:

  • বিশ্বব্যাঙ্কের ভারতীয় শাখার কৃষি ও গ্রামোন্নয়ন মূল লক্ষ্য বিভাগের মতে, ভারতে যে পরিমাণে কৃষি ভর্তুকি দেওয়া হয়, তা দেশের উৎপাদন-বৃদ্ধি সহায়ক বিনিয়োগের পথের প্রধান বাধা। অতিরিক্ত শুল্কের ফলে মূল্য, দামে ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি পায়। সরকার শ্রমিক, জমি ও ঋণের বাজারে হস্তক্ষেপ করে থাকে। তাছাড়া ভারতে পরিকাঠামো ও পরিষেবা অপ্রতুল।[২৩] বিশ্বব্যাঙ্ক আরও বলেছে, কৃষিক্ষেত্রে জলের জোগান অপ্রতুল, অস্থিতিশীল ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। সেচব্যবস্থার মান ক্রমেই নিম্নগামী হচ্ছে।[২৩] অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে হ্রাস পাচ্ছে ভৌমজলের পরিমাণও।[২৪]
  • নিরক্ষরতা, সাধারণ আর্থসামাজিক অনগ্রসরতা, ভূমি সংস্কার ব্যবস্থার শ্লথ প্রয়োগ এবং অপ্রতুল অর্থ জোগান ও উৎপাদিত ফসলের বাজারকরণে অব্যবস্থা।
  • ভ্রান্ত সরকারি নীতি। সাময়িক রাজনৈতিক লাভের আশায় বেহিসেবি কৃষি ভর্তুকি ও শুল্ক নীতি গ্রহণ।
  • জোতের গড় আয়তন খুবই কম (২০,০০০ বর্গমিটারেরও কম) এবং ল্যান্ড সিলিং অ্যাক্ট, বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে পারিবারিক বিবাদের কারণে তাও ভেঙে যায়, এই সব ছোটো ছোটো জোতে অতিরিক্ত লোক দিয়ে কাজ করানো হয়। যার ফলে ছদ্ম বেকারত্ব ও শ্রমশক্তির কম উৎপাদন অব্যাহত থাকে।
  • আধুনিক কৃষি প্রথা ও প্রযুক্তির ব্যবহার অপ্রতুল। অনেক ক্ষেত্রে খরচ বা ছোটো জোতের কারণে এই প্রযুক্তি ব্যবহারও করা যায় না।
  • সেচব্যবস্থা অপ্রতুল। ২০০৩-০৪ সালের হিসেব অনুযায়ী মাত্র ৫২.৬ শতাংশ জমি সেচসেবিত।[২৫] এর ফলে কৃষকদের বৃষ্টি ও মূলত বর্ষাকালের উপর নির্ভর করে থাকতে হয়। বৃষ্টি ভাল হলে সামগ্রিকভাবে তাতে অর্থনীতির উন্নতি হয়, তেমনি বৃষ্টি কম হলে বৃদ্ধি শ্লথ হয়।[২৬] বিদ্যুতে ভর্তুকি থাকার ফলে ওভারপাম্পিং করা হয়। তার ফলে ভৌমজলের পরিমাণ হ্রাস পায়।[২৭][২৮][২৯]

[সম্পাদনা]পাদটীকা

  1.  "CIA Factbook: India"। CIA Factbook। Central Intelligence Agency. Retrieved 2008-06-10
  2.  Agriculture sector Indo British Partnership network, Retrieved on December 2007
  3.  Coorg, Coffee India is the 6th largest coffee producer in the world
  4.  Lester R. Brown World's Rangelands Deteriorating Under Mounting Pressure Earth Policy Institute, Retrieved on- February 2008
  5. ↑ ৫.০ ৫.১ ৫.২ Indian agriculture Agribusiness Information Centre, Retrieved on- February 2008
  6.  Sengupta, Somini (22 June 2008)। "The Food Chain in Fertile India, Growth Outstrips Agriculture"। New York Times. Retrieved 23 April 2010
  7.  Gupta, page 54
  8.  Harris & Gosden, page 385
  9.  Lal, R. (August 2001). "Thematic evolution of ISTRO: transition in scientific issues and research focus from 1955 to 2000". Soil and Tillage Research 61 (1-2): 3–12 [3]. ডিওআই:10.1016/S0167-1987(01)00184-2
  10. ↑ ১০.০ ১০.১ agriculture, history of. Encyclopedia Britannica 2008.
  11.  Shaffer, pages 310-311
  12.  Gupta, page 57
  13.  Iqtidar Husain Siddiqui, "Water Works and Irrigation System in India during Pre-Mughal Times", Journal of the Economic and Social History of the Orient, Vol. 29, No. 1 (Feb., 1986), pp. 52–77.
  14.  Shaffer, page 315
  15.  Palat, page 63
  16.  Kumar, page 182
  17.  Roy 2006
  18.  Kumar 2006
  19.  Agriculture marketing india.gov Retrieved on- February 2008
  20.  Objectives Indian agricultural research institute, Retrieved on December 2007
  21.  Farmers Commission
  22.  "India Country Overview 2008"। World Bank। 2008।
  23. ↑ ২৩.০ ২৩.১ "India: Priorities for Agriculture and Rural Development"। World Bank
  24.  Is Northwestern India's Breadbasket Running Out of Water?
  25.  Multiple authors. "Agricultural Statistics at a Glance 2004".
  26.  Sankaran, S. "28". Indian Economy: Problems, Policies and Development. pp. 492–493.
  27.  Satellites Unlock Secret To Northern India's Vanishing Water
  28.  Columbia Conference on Water Security in India
  29.  Keepers of the spring: reclaiming our water in an age of globalization, By Fred Pearce, page 77.

[সম্পাদনা]বহিঃসংযোগ

ভারতে অর্থনৈতিক উদারীকরণ

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে

ভারতে অর্থনৈতিক উদারীকরণ দেশের অর্থনীতির সাম্প্রতিক সংস্কার প্রক্রিয়াকে নির্দেশ করে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর ভারত সমাজতান্ত্রিকনীতি গ্রহণ করে। এই ব্যবস্থায় চালু ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ প্রথাকে উপহাস করে বলা হত "লাইসেন্স রাজ" ও ধীর বৃদ্ধির হারটির নাম ছিল "হিন্দু বৃদ্ধিহার"। ১৯৮০-এর দশকে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী কিছু সংস্কারের উদ্যোগ নেন। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে তাঁর সরকারকে পিছু হটতে হয়। ১৯৯১ সালে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার ভারতকে দেউলিয়া রাষ্ট্র ঘোষণা করলে পি ভি নরসিমা রাও সরকার ও অর্থমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংহ দেশের অর্থব্যবস্থায় আমূল সংস্কারসাধনে প্রবৃত্ত হন। নতুন গৃহীত নীতিগুলির মধ্যে ছিল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের বাজারকে উন্মুক্ত করে দেওয়া, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ, বেসরকারিকরণ চালু করা, করব্যবস্থায় সংস্কার, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ। এরপর থেকে দেশের সামগ্রিক উদারীকরণের গতিমুখ শাসক দল নির্বিশেষে একই প্রকার থাকে। যদিও ট্রেড ইউনিয়ন ও কৃষকের মতো শক্তিশালী লবি বা শ্রম আইন সংশোধন ও কৃষি ভর্তুকি হ্রাসের মতো বহু আলোচিত ক্ষেত্রে কোনো সরকারই হস্তক্ষেপ করেনি।[১]

২০০৯ সালের হিসেব অনুসারে দেশের প্রায় ৩০ কোটি মানুষ অতিদরিদ্রতার কবল মুক্ত হয়েছে।[২] ২০০৭ সালে উদারীকরণের চূড়ান্ত সাফল্যের নজির মেলে সর্বোচ্চ ৯% জিডিপি হার বৃদ্ধিতে।[৩] এর সঙ্গে সঙ্গেই চিনের পর ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বদ্রুত বৃদ্ধিশালী অর্থব্যবস্থায় পরিণত হয়।[৪]অর্গ্যানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি)-এর রিপোর্ট অনুসারে, এক দশকে গড় বৃদ্ধির হার ৭.৫% গড় আয়ের দ্বিগুণ হবে এবং আরও সংস্কার প্রয়োজন হবে।[৫]

ভারতীয় সরকার সহযোগীরা উদারীকরণ এগিয়ে নিয়ে চলার প্রস্তাব রেখেছেন। কারণ, ভারতের বৃদ্ধির হার চিনের তুলনায় কম।[৬] ম্যাককিনসের মতে, প্রধান প্রধান বাধাগুলি অপসারিত করলেই, "স্বাধীন ভারতের অর্থনীতি চিনের মতো বার্ষিক ১০% হারে বৃদ্ধি পেতে থাকবে।"[৭]

[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]বহিঃসংযোগ

[সম্পাদনা]আরও দেখুন


ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন

উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে
মূল নিবন্ধ: ভারতের অর্থনীতি
ভারতের ত্রিশ কোটি মধ্যবিত্ত জনসংখ্যার বার্ষিক বৃদ্ধির হার ৫%।[১]উপরের চিত্রে মুম্বাই মহানগরীর বসতাঞ্চল
কোচির কালুরে বহুতল বাণিজ্যিক ভবনের পাশে বস্তি। এই ধরনের দূষিত পরিবেশে বাস করেন কাজের খোঁজে শহরে আসা শত শত শ্রমিক শ্রেণীর মানুষজন। [২]

ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দেশের স্বাধীনোত্তর ইতিহাসে মোটামুটি সমাজতান্ত্রিক ধাঁচের নীতিতে পরিচালিত হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ; লাইসেন্স রাজ নামে পরিচিত বহুবিধ বিধি ও লাল ফিতের নীতি; এবং বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্নতা ছিল এই ব্যবস্থার বৈশিষ্ট্য। স্বাধীনতার পরবর্তী তিন দশকে ভারতে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ১%। [৩]১৯৮০-এর দশকের মধ্যভাগ থেকে অর্থনৈতিক উদারীকরণের মাধ্যমে ভারতের বাজার ধীরে ধীরে খুলে যেতে থাকে। ১৯৯১ সালের মৌলিকতর আর্থিক সংস্কার ও ২০০০-এর দশকে তার নবায়নের ফলে ভারত বাজারভিত্তিক ব্যবস্থা স্থাপনের পথে অগ্রসর হয়।[৩]

২০০০-এর দশকের শেষভাগে ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭.৫%, যা দেশের গড় দশকীয় আয়ের দ্বিগুণ।[৩] বিশ্লেষক মহলের ধারণা, ভারত আরও বাজার সংস্কারের ক্ষেত্রে আরো কতকগুলি মৌলিক পদক্ষেপ নিলেই এই হার বৃদ্ধি পাবে এবং ২০১১ সালের মধ্যে সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত লক্ষ্যমাত্রা ১০ শতাংশে উপনীত হবে।[৩] নিজ নিজ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভারতীয় রাজ্যগুলির নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে। রাজ্যক্ষেত্রে ১৯৯৮-২০০৮ বর্ষভিত্তিক বৃদ্ধির হার হল : গুজরাট (৮.৮%), হরিয়ানা (৮.৭%), দিল্লি (৭.৪%)। এই হার বিহার (৫.১%), উত্তরপ্রদেশ (৪.৪%) বা মধ্যপ্রদেশ(৩.৫%) রাজ্যের তুলনায় অনেক বেশি।[৪] ভারত বিশ্বে দ্বাদশ বৃহত্তম অর্থব্যবস্থা; ক্রয়ক্ষমতা সমতার নিরিখে বিশ্বে চতুর্থ বৃহত্তম ও মাথাপিছু জিডিপি (নমিন্যাল) ও মাথাপিছু জিডিপি (পিপিপি) অনুযায়ী বিশ্বে যথাক্রমে ১২৮তম ও ১১৮তম।

ভারতে জীবনযাত্রার মান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেলেও জনসংখ্যার ৭৫.৬ শতাংশের দৈনিক ক্রয়ক্ষমতা সমতা ২ মার্কিন ডলারেরও কম, এবং নমিন্যাল ক্ষেত্রে তা ০.৫ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি।[৫] ভারতীয়দের দুই তৃতীয়াংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গ্রামাঞ্চলে কৃষিকাজ থেকে জীবিকানির্বাহ করেন। আবার জিডিপির অংশ হিসেবে নগর ও মহানগরগুলি ভারতীয় অর্থনীতির দুই তৃতীয়াংশের গঠনকর্তা।

ভারতের অর্থনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়া অত্যন্ত দ্রুত সারা হচ্ছে। বিশ্ব ব্যাংকের মতে সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ প্রয়োজন পাবলিক সেক্টর সংস্কার, পরিকাঠামো, কৃষি ও গ্রামীন উন্নয়ন, শ্রম আইনের অপসারণ, পিছিয়ে পড়া রাজ্য ও এইচআইভি/এইডস-এর ক্ষেত্রে।[৬] ২০০৮ সালের ইজ অফ ডুইং বিজনেস ইনডেক্স অনুসারে ভারতের স্থান ১২০তম। উল্লেখ্য এই ইনডেক্সে গণপ্রজাতন্ত্রী চিন ও ব্রাজিলের স্থান যথাক্রমে ৮৩তম ও ১২০তম।

[সম্পাদনা]তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]বহিঃসংযোগ



No comments:

Post a Comment

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...

Welcom

Website counter

Census 2010

Followers

Blog Archive

Contributors